দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর উৎসবের রঙ। কিন্তু সমাজের কিছু মানুষ এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “মেহেরপুর ভাবনা” আয়োজন করেছে “ঈদ উল্লাস ২০২৫”। এই আয়োজনের মাধ্যমে ১০০ জন শিশু মাত্র পাঁচ টাকায় নতুন পোশাক এবং ৫০টি পরিবার ঈদ সামগ্রী পেয়েছে।
পাঁচ টাকায় পছন্দের জামা কেনার সুযোগ পেয়ে শিশুরা আনন্দে আত্মহারা। তাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক, যেন ঈদের আনন্দ তারা আগেভাগেই পেয়ে গেছে। একজন অভিভাবক আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, “গত বছর যে পোশাক পরে ঈদের নামাজ পড়েছি, ভেবেছিলাম এবারও তাই পরব। কিন্তু সন্তানের জন্য নতুন জামার ইচ্ছাটা মন থেকে যাচ্ছিল না। আজ পাঁচ টাকায় এই নতুন পোশাক পেয়ে মনে হচ্ছে, আমাদের ঘরেও ঈদ এসেছে!”
এই আয়োজন শুধু শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আরও একটি মহৎ বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে “মেহেরপুর ভাবনা”। অতিথিদের ফুলের তোড়া নয়, উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে চারাগাছ। প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তা দিতে এবং “সবুজ বাংলাদেশ, সুস্থ বাংলাদেশ” গড়তে সংগঠনটি এই উদ্যোগ নেয়। অতিথিরাও এতে মুগ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করেছেন, তারা এই চারাগাছ রোপণ করবেন এবং পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. খায়রুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মেহেরপুর সদর। বিশেষ অতিথি ছিলেন এহসান মজিদ মুস্তফা, সহকারী অধ্যাপক, আইন ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ডা. তারেক আহমেদ, মেডিকেল অফিসার, সরকারি হাসপাতাল, মেহেরপুর এবং জনাব জহুরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক, গোপালনগর, মুজিবনগর। সভাপতিত্ব করেন তানভীর আর মামুন, সভাপতি, মেহেরপুর ভাবনা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক সামি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাওন, দপ্তর সম্পাদক রাহাত, এবং সংগঠনের আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবক—তুষার, রাসেল, উদয়, বাছেরা, সাদিয়া, এনি, তানভীর, ডালিম, আরিফুল, নেহা, সুরুজ, নাজমুল, আরভী, শিহাব, সিয়াম, তামান্না, কৌহলি, অরনি প্রমুখ।
“মেহেরপুর ভাবনা”-এর প্রধান সমন্বয়কারী রাতুল আহমেদ বলেন, “ঈদ মানে শুধু নিজের জন্য নতুন পোশাক কেনা নয়, ঈদ মানে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। আমরা চাই, কেউ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। এই আয়োজন শুধুমাত্র নতুন জামা দেওয়ার জন্য নয়, বরং শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। পাশাপাশি আমরা পরিবেশের প্রতিও দায়বদ্ধ। তাই অতিথিদের ফুল নয়, গাছ উপহার দিয়েছি। আমরা চাই, বাংলাদেশ আরও সবুজ হোক, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হোক।”
“মেহেরপুর ভাবনা”-এর এই উদ্যোগ মেহেরপুরবাসীর হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। তারা প্রমাণ করেছে যে সেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম এবং সাহায্য করাও এক ধরনের আনন্দ। সংগঠনের সদস্যরা দিন-রাত পরিশ্রম করে এই আয়োজন সফল করেছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এই উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তারা বিশ্বাস করেন, মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসলেই সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব।