ঢাকা বুধবার, মে ২৯, ২০২৪

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

প্রশান্ত মহাসাগরের এলনিনো ও লানিনো


নিউজ ডেস্ক
৮:৪৭ - শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৪
প্রশান্ত মহাসাগরের এলনিনো ও লানিনো

শাহরিয়ার হোসাইন শাহপরান:: বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যাখ্যার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট এল নিনো ও লা নিনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এল নিনো দিয়ে শুরু করা যাক তবে তার আগে প্রশান্ত মহাসাগরের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে সামান্য ধারণা দেই।


প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা এবং পশ্চিম পাড়ে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ অবস্থিত। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বপাড়ের দক্ষিণ আমেরিকা সংলগ্ন পেরু অংশে শীতল জল বিদ্যামান থাকে কিন্তু এ শীতল জল যখন পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হতে থাকে তখন পানির স্রোত ধীরে ধীরে উষ্ণ হতে থাকে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য খাড়াভাবে থাকায় সূর্যের তাপটা বেশি পড়ে যার জন্য পানির উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। এটি হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক অবস্থা। কিন্তু এ স্বাভাবিক অবস্থা আবার ২থেকে ৪ বছর পর পর পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তিত অবস্থার একটি হচ্ছে এল নিনো অপরটি হচ্ছে লা নিনো। 


বর্তমান সময়ে এই দুটি শব্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। আমরা এবার শব্দ দুটোর গভীরে যাবার চেষ্টা করবো।প্রথমেই এল নিনো এর ব্যাপারে আলোকপাত করি। এল নিনো হচ্ছে স্পানিশ শব্দ যার অর্থ ছোট্ট খোকা। এল নিনো এর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের জলের স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর ফলে প্রথমেই পূর্বপাড়ের দক্ষিণ আমেরিকা সংলগ্ন অংশে পানি ধীরে ধীরে উষ্ণ হতে থাকে। এটি ঘটে মূলত পশ্চিম পাড়ের উষ্ণ পানি যখন ক্রমশ পূর্বপাড়ের দিকে ধাবিত হয় তখন। ফলে দক্ষিণ আমেরিকা সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের পানি উষ্ণ থাকে এল নিনোর জন্য। অপরদিকে পশ্চিম পাড়ে অর্থ্যাৎ অস্ট্রেলিয়া সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের পানি শীতল হতে শুরু। কারণ এ অঞ্চলের উষ্ণ পানি তখন পূর্বপাড়ে চলে আসে। পুরোপুরি বিপরীত একটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। এল নিনোর জন্য পশ্চিম পাড়ের পানি শীতল এবং পূর্ব পাড়ের পানি উষ্ণ হয়। যার প্রেক্ষিতে পশ্চিম পাড় সংলগ্ন অংশসমূহে উচ্চচাপ বিরাজমান করে। বাতাস নিম্নমুখী অবস্থায় থাকে। এতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায় এমনকি খরাও দেখা দেয়।সেইসাথে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে গিয়ে প্রচন্ড গরম অনুভূত হয়।অপরদিকে পশ্চিম পাড়ে উষ্ণ জল বিদ্যামান থাকায় তা ক্রমশই উপরের দিকে উঠে গিয়ে ভারী বাতাসে পরিণত হয়। এরপর এই ভারী বাতাস মেঘ হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি আকারে পতিত হয়। এক্ষেত্রে বায়ুপ্রবাহ নিম্নচাপ অংশ থেকে উচ্চচাপের দিকে ধাবিত হয়। যার ফলস্বরূপ পশ্চিম পাড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত দেখা দেয়। বন্যাও দেখা দেয় মাঝেমধ্যে।


এবার আসি লা নিনো প্রসঙ্গে। লা নিনো শব্দের অর্থ হচ্ছে ছোট্ট খুকি। এল নিনো এর পুরোপুরি বিপরীত ঘটনা ঘটে লা নিনো এর ক্ষেত্রে। প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব পাড়ের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যধিক শীতল হয়। যার ফলে পেরুসহ দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ইত্যাদি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যায়। খরা দেখা দিতে পারে পাশাপাশি তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটে। পানি অধিক শীতল থাকায় চাপ বেড়ে গিয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয়।ফলে উচ্চচাপটি নিম্নগামী হয়ে সাগরেই থেকে যায়। অন্যদিকে লা নিনো এর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম পাড়ের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক উষ্ণ হয়। পশ্চিম পাড়ের অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া,আফ্রিকা ইত্যাদি অংশে তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। এমনকি বড় বড় বন্যাও সংঘটিত হয়।পানি অধিক উষ্ণ থাকায় চাপ কম গিয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তীতে উচ্চ চাপে পরিণত হয়ে হালকা বাতাসকে ভারী বাতাসে পরিণত করে। এরপর তা মেঘে পরিণত হয়ে পরবর্তীতে বৃষ্টি হিসেবে পতিত হয়। 


বর্তমান সময়ে এল নিনো ও লা নিনো এর প্রভাব ভয়ংকর রূপে দেখা যাচ্ছে। এর অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তনে উদাসীনতা কিংবা স্বেচ্ছাচারিতা। পৃথিবীর পরিবেশ ঠিক রাখতে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে আনতে হবে। তবেই কেবল এল নিনো এবং লা নিনোর প্রভাব থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া সম্ভব।