ঢাকা সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

কুড়িগ্রামে ৪ দিনে নদীগর্ভে বিলীন ৬০ বাড়িঘর


নিউজ ডেস্ক
১৪:৪১ - সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬
কুড়িগ্রামে ৪ দিনে নদীগর্ভে বিলীন ৬০ বাড়িঘর

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে গত চার দিনে ৬০টি বাড়ি ঘরসহ শত শত একর জমি ভেঙে নদী গর্ভে চলে গেছে। ঘর বাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে গত চার দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির বৃদ্ধির কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশারপাড়া আশ্রয়ন এলাকায় ৬০টি পরিবারের বাড়িঘরসহ শত শত একর জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অন্যের জায়গায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবারগুলো। এছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ছয়টি খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন যাওয়ায় এলাকায় অন্ধকার রয়েছে।


ভাঙনের মুখে রয়েছে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।


সরেজমিনে দেখা গেছে, চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ইতোমধ্যে ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। এসময় নদী ভাঙনের মুখে থাকায় বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই।


বিশারপাড়া এলাকার আতিকুর রহমান (৪০) বলেন, যেভাবে নদী ভাঙছে, যদি এভাবে ভাঙা শুরু হয় তাহলে কয়েক দিনের মধ্যে ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।


একই এলাকার মো. শাহিন মিয়া (৫০) বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদী আমার বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার হারিয়ে ফেলেছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙন থেকে স্থায়ী সমাধান।


কড়াইবরিশাল এলাকার মমতাজ বেগম (৪০) বলেন, ‘নদীরভাঙনের মুখে হামার ঘরবাড়ি যদি ভাঙি যায়, তাহলে ছাওয়া-পাওয়া নিয়ে কই থাকমো কই যামো সে চিন্তায় বাচিনে।’


চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৮৫০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতোমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।


কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, চরাঞ্চলের এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। প্রাথমিকভাবে এক হাজার পাচঁশ জিও বস্তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। এজন্য ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।