ঢাকা বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে হামলা হয়েছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী


নিউজ ডেস্ক
১৬:২৬ - বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে হামলা হয়েছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমাদের ওপরে যে হামলাগুলো হলো- তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ মদদে হামলা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির মিটিং বসেছে। ওই কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। এদেরকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দাও। প্রিয় তারেক রহমান শুনে রাখুন, প্রিয় বিএনপি শুনে রাখুন- বাংলাদেশে ওসমান হাদিকে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। লক্ষ-কোটি ওসমান হাদি জন্মগ্রহণ করেছে। আমাদেরকেও নিশ্চিহ্ন করে দেন, আজাদির কোটি কোটি সৈনিক রাজপথে নামতে প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার উত্তর বাজারে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখনো জীবিত আছি। আজকে কয়েকদিন আমাদের ওপরে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। রাস্তায় যাই, মানুষজন আমাদেরকে দেখতে আসে। দেখার মধ্যেই কিছু গুপ্ত বিএনপি থাকে। এখন আমরা খুঁজে পাই না। বাংলাদেশে দুইটা দল গুপ্ত হয়েছে। একটা দল হল আওয়ামী লীগ। আরেকটা দল হল বিএনপি। দুইটার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। 


তিনি বলেন, প্রিয় কানায়ঘাটবাসী আজকে টাকা দিয়ে আপনাদেরকে এখানে কেউ নিয়ে আসে নাই। আপনারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন। পথে অনেক সন্ত্রাসী উদ পেতে ছিল। আমরাও জীবনের রিস্ক নিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছি। ঠিক। আমাদের ভালোবাসার একটা জায়গা- আমরা সবাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের মাপকাঠিতে আজকে আমরা এখানে অবস্থান করছি। গত ১৭ বছরে যেই ভাইয়েরা বলেছিল- বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রয়োজন, যেই ভাইয়েরা বলেছিল- আমার বাসার সামনে বালুর ট্রাক, সেই ভাইয়েরা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার সময় দেখি রাস্তা বন্ধ। রাস্তাতে ট্রাকের চাকা পানচার করে ট্রাক রেখে দিয়েছে। কিন্তু বালু ছিল না। আমরা সেই ট্রাক সরিয়েছি। তারপরে দেখি ৪০০ পুলিশ। পুলিশ যাইতে দিবে না। পুলিশের দিকে তাকিয়ে দেখি- যেই পুলিশ আওয়ামী লীগের আমলে যেইভাবে হিংস্র চরিত্র নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই একই পুলিশ আবার দাঁড়িয়ে আছে।


এনসিপির এই নেতা বলেন, পুলিশ ভাইদেরকে বললাম আপনাদের যারা অফিসার তাদের সন্তানরা বিদেশে পড়ে, রাতে স্থানীয় যারা এমপি তাদের সাথে মাদকের ব্যবসা করে, সন্ত্রাস করে, দুর্নীতি করে। যারা পুলিশের সাধারণ সদস্য তাদের সাথে আমাদের কোনো প্রবলেম নাই। ১২-১৩ হাজার টাকা বেতন দেয়, সারাদিন দাঁড় করিয়ে রাখে। ফ্যামিলির কাছে যাইতে পারে না। তাদেরকে আমাদের ওপরে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একটু পরে গিয়ে দেখি রাস্তার মধ্যে ট্রাক্টর রেখে দিয়েছে। আমরা সেটাও অতিক্রম করলাম। এরপরে গিয়ে দেখি ৫০০ পুলিশ পুরো রাস্তা ঘেরাও করে রেখেছে। তারপরে এপিবিএন, তারপরে বিজিবি, তারপরে ছাত্রদলের গুন্ডা সন্ত্রাসী, যাদের সবার হাতে অস্ত্র এবং দা-কুড়াল ছিল। ডান দিকে তাকাইলাম। সেখানেও দেখি তাদের হাতে অস্ত্র। বাম দিকে তাকাইলাম। সেখানেও দেখি অস্ত্র। চিন্তা করলাম এ বাংলাদেশে আবার কোথা থেকে আবিষ্কৃত হল দা বাহিনী কুড়াল বাহিনী। এক মুরুব্বি জানাইলো- এটা হল তারেক রহমানের বাহিনী। তারেক রহমানকে বলব বাংলাদেশে আপনাকে হয়তো গণতন্ত্র বেছে নিতে হবে। যদি সন্ত্রাস বেছে নেন জানায় দিন। সকল সন্ত্রাসীদেরকে মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত আছি বাংলাদেশে। 


তিনি বলেন, প্রিয় সিলেটবাসী, আপনারা শাহজালালের বংশধর, ফুলতলির বংশধর, শাহ মাখদুমের বংশধর, বাংলাদেশের মানুষ খানজাহান আলীর বংশধর, শাহপরানের বংশধর কাইয়ুমপুরীর বংশধর। আমরা ভয় পাই না কাউকে। একমাত্র এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই? ওরা আমাদেরকে ইট নিয়ে ভয় দেখায়। দা নিয়ে ভয় দেখায়। কী একটা অসভ্য জগতে আইসা পড়লাম। আমরা মনে করলাম ১৭ বছর এগুলা জেলে থাইকা সভ্য হয়ে গেছে শেখ হাসিনার জেলে অনেক নিরপরাধ মানুষ ছিল। আমরা একটু তাদেরকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলাম। জেল খুলে দিলাম। ওদের আগের যে খাসলত হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়া। যেই মানুষগুলাকে মুক্ত করে দিলাম আমরা, সেই মানুষগুলা এখন অস্ত্র নিয়ে আমাদেরকে মারতে আসে। দুঃখের বিষয়। 


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রিয় তারেক রহমান আসতে পারতেন না দেশে। আমরা আপনার মাকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম। রক্ত আমরা দিয়েছি। আপনার মাকে সসম্মানে বাংলাদেশ থেকে বিদায় জানিয়েছিলাম আমরা। কারণ আমরা গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করি। উনি বলেছিলেন- ‘ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা।’ আপনার বাবা বলেছিলেন- উই রিভোল্ট। ভারতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সবসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আপনার কী হয়েছে? সমস্যাটা আমাদেরকে একটু বলেন। এই এই কারণে আমি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছি। 


তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম তারেক রহমানকে চারটা পথ পরিহার করতে হবে। এক নম্বর হলো বাংলাদেশে চাঁদাবাজি পরিহার করতে হবে। দুই নম্বর সন্ত্রাস পরিহার করতে হবে। তিন নম্বর দখলদারি প্রতিহত করতে হবে। চার নম্বর ভারতীয় যারা বাংলাদেশের আজাদি খেয়ে ফেলতে চায় ওদেরকে প্রতিহত করতে হবে। যদি প্রতিহত করতে না পারেন বলেন- বাবারা চালাইতে আর পারি না। আজকে আপনি ইস্তফা দিয়ে দেন, আমরা ক্ষমতা চালাইতে পারবো। সমস্যা নাই। আমাদের কোনো গুন্ডা লাগবে না, কোনো সন্ত্রাসী লাগবে না, আমাদের কোনো দখলবাজ লাগবে না, কোনো টেন্ডারবাজ লাগবে না। কোন চাঁদাবাজ লাগবে না। আমরা শাহজালালের উত্তরসূরি হয়ে, যেভাবে বাংলাদেশের মজলুমদের পক্ষে উনি দাঁড়িছিলেন আমরা সেইভাবেই ন্যায়-ইনসাফের আজাদির রাষ্ট্র কায়েম করতে প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ। 


পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। 

সর্বশেষ - সারাবাংলা