ঢাকা মঙ্গলবার, মে ২৪, ২০২২

Popular bangla online news portal

কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ


নিউজ ডেস্ক
৬:০৯ - শুক্রবার, মে ৬, ২০২২
কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। এতে ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলের কর্মমুখী মানুষের চাপ বাড়ছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়।

তবে ঢাকামুখী যানবাহনের তেমন চাপ না থাকলেও কর্মমুখী যাত্রীর চাপ রয়েছে পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটে। ভোগান্তি ছাড়াই এসব কর্মমুখী মানুষ ফেরি ও লঞ্চে করে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ঘাটে আসছে। এরপর প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে লোকাল বাসে করে গন্তব্যের দিকে চলে যাচ্ছে।

শুক্রবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিনে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত তাদের আসতে সড়কে তেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। এরপরই ফেরি বা লঞ্চে করে ভোগান্তি ছাড়াই পাটুরিয়া ফেরিঘাট আসতে পারছে। ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর পুরোনো টার্মিনাল থেকে লোকাল বাসের চালক ও সহযোগীরা এসব কর্মমুখী যাত্রীকে নিয়ে ছুটছেন ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া গাজীপুর, যাত্রাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়।

এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে বাসের চালক-সহযোগীরা যাতে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারেন এবং যাত্রী হয়রানি রোধে ফেরিঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ রয়েছে।

পাটুরিয়া বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর পুরাতন টার্মিনাল থেকে ঢাকা, চিটাগাং রোড এবং গাজীপুর রোডের গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে সেলফি পরিবহন ঢাকার গাবতলী, নীলাচল এক্সপ্রেস চিটাগাং রোড, উনিশে পরিবহন গাজীপুর পর্যন্ত। গাবতলী পর্যন্ত যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা, নীলাচলে চিটাগাং রোড নিচ্ছে ২৫০ টাকা আর গাজীপুর ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া যাত্রীপ্রতি। এসব বোডের বাসের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

তবে কোনো যাত্রী কাছে থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি বাস মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষের।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী আব্দুস সোবাহান বলেন, ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি দোকানে কাজ করি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় গেছিলাম। দোকানের মালিক রাতে ফোন করে বলল কাজে যোগ দিতে হবে আজকেই। এ জন্য সকালে পরিবার নিয়া রওনা হয়ে এ পর্যন্ত আসছি। তবে সড়কে এবং ফেরিতে পার হতে কোনো ভোগান্তি হয়নি। মনে হচ্ছে স্বস্তিতেই যেতে পারব।

আরেক যাত্রী হালিম মিয়া বলেন, গাজীপুর একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। কারখানাও খুলে যাবে দুই-এক দিনের মধ্যে। তাই ভোগান্তি এড়াতে আগে পরিবার নিয়া কর্মস্থলে যাচ্ছি। ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ পাটুরিয়া বেড়ে গেলে বাসের ভাড়াও বেড়ে যায়। মোটকথা ভোগান্তি এড়াতে আর নিয়মিত বাস ভাড়াতেই কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য আজকে রওনা হয়েছি।

ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে উনিশে পরিবহনের সুপারভাইজার সোলায়মান হোসেন বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিচ্ছি। কোনো বাসের চালক ও সহকারী যাত্রীদের কাছে থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে না। ঢাকা থেকে আমাগো খালি গাড়ি নিয়া আসতে হয় পাটুরিয়ায়। এখন আগের মতো আর যাত্রী হয় না আর যাত্রীরাও এখন অনেক সচেতন।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট-বড় মিলে ২০টি ফেরি চলাচল করছে। আজ সকাল থেকে পাটুরিয়ায় মানুষের চাপ কিছুটা বাড়ছে। তবে ভোগান্তি ছাড়াই কর্মস্থলের দিকে ছুটছে এসব যাত্রী ও যানবাহন।