বর্তমান সময়ে অফিসিয়াল কাজ হোক বা শিক্ষার্থীর পড়াশোনা—একটি ভালো মানের প্রিন্টার থাকা প্রায় অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং ফিচারের ভিড় থেকে সঠিক প্রিন্টারটি বেছে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তাড়াহুড়ো করে ভুল প্রিন্টার কিনলে পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আপনার মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
প্রিন্টার কেনার আগে কোন বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করবেন, তা নিয়ে আজকের এই আলোচনা।
প্রিন্টার কেনার আগে প্রথমেই ভাবুন আপনি এটি কী কাজে ব্যবহার করবেন।
সাধারণ ব্যবহার: যদি কেবল ডকুমেন্ট বা টেক্সট প্রিন্ট করার প্রয়োজন হয়, তবে লেজার প্রিন্টার সেরা।
ছবি বা কালার প্রিন্টিং: আপনি যদি গ্রাফিক্স বা উন্নত মানের ছবি প্রিন্ট করতে চান, তবে ইঙ্কজেট প্রিন্টার বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ইঙ্কজেট প্রিন্টার: এটি লিকুইড ইঙ্ক ব্যবহার করে। কালার প্রিন্টিংয়ের জন্য এটি দারুণ, তবে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে এর হেড শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
লেজার প্রিন্টার: এটি পাউডার বা টোনার ব্যবহার করে। এর প্রিন্টিং স্পিড অনেক বেশি এবং টেক্সট অনেক বেশি শার্প হয়। দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী হতে চাইলে লেজার প্রিন্টার বেছে নিন।
অনেকেই কম দামে প্রিন্টার কিনে ফেলেন, কিন্তু পরে দেখা যায় সেটির কালির দাম আকাশচুম্বী। প্রিন্টার কেনার আগে অবশ্যই বাজারে সেটির রিফিল বা টোনারের প্রাপ্যতা যাচাই করে নিন।
বিশেষ করে লেজার প্রিন্টারের ক্ষেত্রে টোনারের দাম বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে কেমন, তা যাচাই করা জরুরি। অনেক সময় প্রিন্টারের দামের চেয়ে কয়েকবার টোনার পরিবর্তনের খরচ বেশি হয়ে যায়, তাই আগে থেকেই সাশ্রয়ী টোনার সাপোর্ট করে এমন মডেল কিনুন।
আধুনিক যুগে কেবল তার দিয়ে যুক্ত প্রিন্টার ব্যবহার করা বেশ ঝামেলার। তাই কেনার সময় নিচের ফিচারগুলো আছে কি না দেখে নিন:
Wi-Fi: তার ছাড়াই ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন থেকে কমান্ড দেওয়া যায়।
Cloud Printing: আপনি বাসার বাইরে থাকলেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রিন্ট দিতে পারবেন।
USB Port: সরাসরি পেনড্রাইভ থেকে প্রিন্ট করার সুবিধা।
আপনার কি শুধু প্রিন্ট করলেই চলবে, নাকি স্ক্যান এবং ফটোকপি করারও প্রয়োজন আছে? যদি সব সুবিধা এক মেশিনে চান, তবে All-in-One (Multifunction) প্রিন্টার কিনুন। এটি আলাদা করে স্ক্যানার কেনার খরচ এবং জায়গার অপচয় বাঁচাবে।
অফিসের কাজের জন্য কিনলে PPM (Pages Per Minute) বা প্রিন্টিং স্পিড দেখে নিন। বেশি পিপিএম মানে দ্রুত প্রিন্ট। আবার ছবির কাজের জন্য উচ্চ DPI (Dots Per Inch) বা রেজোলিউশন সম্পন্ন প্রিন্টার পছন্দ করুন।
প্রিন্টার কেনা মানে কেবল এককালীন বিনিয়োগ নয়, এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়। তাই সার্ভিস ওয়ারেন্টি, পার্টসের সহজলভ্যতা এবং টোনারের দাম বিবেচনা করে একটি টেকসই ব্র্যান্ডের প্রি