ঢাকা বুধবার, মে ২৯, ২০২৪

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

তেলাপোকা মারার স্প্রেতে ২ শিশুর মৃত্যু: অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান


নিউজ ডেস্ক
১৬:১৩ - সোমবার, জুন ৫, ২০২৩
তেলাপোকা মারার স্প্রেতে ২ শিশুর মৃত্যু: অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তেলাপোকা মারার স্প্রের বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ডিএমপির ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন তাদের বাবা মোবারক হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, দ্য পেস্ট কন্ট্রোল নামে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

সোমবার (৫ জুন) রাতে ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, তেলাপোকা মারার স্প্রের বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের বাবা বাদী হয়ে আজ (সোমবার) বিকেলে দ্য পেস্ট কন্ট্রোল নামে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে।

ওসি এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন, নিহত দুই শিশুর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের বাবা-মাও বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা আজ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন।

এর আগে রোববার (৪ জুন) তেলাপোকা মারার স্প্রের বিষক্রিয়ার কারণে ওই দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের উদ্ধার করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন ভোরেই শাহিল মোবারত জায়ান (৯) নামের শিশুটি মারা যায়। পরে রাত ১০টায় শাহিলের বড় ভাই শায়েন মোবারত জাহিনও (১৫) মারা যায়। একই ঘটনায় দুই শিশুর মা শারমিন জাহান লিমা ও বাবা মোবারক হোসেনও বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পুলিশ ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ জুন) বসুন্ধরা আই বক্লের নতুন বাসায় স্প্রে পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের কর্মীরা এসে স্প্রে করে যান। এর দুইদিন পর পরিবারের সদস্যরা বাসায় প্রবেশ করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে রোববার ভোরে শাহিল মোবারত জায়ান মারা যান। পরে রাত ১০টায় পরিবারের বড় ছেলে শায়েন মোবারত জাহিন মারা যায়।

নিহতের খালা ডা. রওনক জাহান রোজি অভিযোগ করে বলেন, পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের অদক্ষ কর্মীদের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও সদুত্তর পাইনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, রোববার ভোরে জায়ানকে মৃত অবস্থায় ও জাহিনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে ওই দিন রাত ১০টায় আইসিইউতে শায়েন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে পুলিশ এসে নিহত দুইজনের মরদেহ নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বিষক্রিয়াজনিত কারণে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মরদেহ এখন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি আমরা। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।