ঢাকা বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০২৪

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

ব্রডকাস্ট প্রযোজকদের আড্ডায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি


নিউজ ডেস্ক
১৮:১১ - রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০২৪
ব্রডকাস্ট প্রযোজকদের আড্ডায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি

ঢাকার সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো ব্রডকাস্ট প্রডিউসারদের আড্ডা। ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় এ আড্ডা বসে। বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশনের খ্যাতিমান প্রযোজকদের উপস্থিতিতে আনন্দময় ছিল আড্ডাটি। 

শুরুতে একটি অনানুষ্ঠানিক আড্ডার আহ্বান করা হলেও প্রতিভাবান প্রযোজকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, জ্ঞানগর্ভ কথা ও রসগল্পে আনুষ্ঠানিক রূপ ধারণ করে আড্ডাটি।

ব্রডকাস্ট প্রযোজকদের এ আড্ডায় অংশ নিয়েছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির অনুষ্ঠান মহাব্যবস্থাপক ও অনুষ্ঠান প্রযোজক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, এনটিভির অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক ও অনুষ্ঠান প্রযোজক কাজী মোঃ মোস্তফা, এনটিভির অনুষ্ঠান প্রযোজক মোঃ নুরুজ্জামান, দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের সাবেক অনুষ্ঠান প্রযোজক ফয়েজ রেজা, একুশে টেলিভিশন এর অনুষ্ঠান প্রযোজক রাকিবুল আলম রুশো, টেলিভিশন প্রডিউসার্স এসোসিয়েশন, টিপিএ এর সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টেলিভিশন এর অনুষ্ঠান প্রযোজক ইসরাফিল শাহীন, অনুষ্ঠান প্রযোজক সোহেইল আবু জাফর, মাছরাঙা টেলিভিশন এর সহযোগী অনুাষ্ঠান প্রযোজক সৈয়দ যুবায়ের ইকবাল, বিজয় টিভির অনুষ্ঠান প্রধান শরীফ মো. নাজমুল হক, প্রতিদিনের সংবাদ এর প্রধান প্রতিবেদক পার্থ সারথি দাস। 

আড্ডা  সঞ্চালনা করেন প্রস্তাবিত মোশন টিভির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মুসতাক মুকুল। 


আড্ডায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন- বাঙালি সংস্কৃতির বিশেষ অনুষঙ্গ 'আড্ডা'। চায়ের দোকানে, পথের মোড়ে, গলির ভেতরে, অফিসে, ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে বা ক্যাফেটেরিয়ায় জম্পেশ আড্ডা জমে। এ শহরে আনুষ্ঠানিক রূপেও আড্ডার প্রচলন আছে। সৃজনশীল লেখক, কবি সাহিত্যিক, সংস্কৃতি কর্মীদের আড্ডাতো বসে হরহামেশাই। আজকের আড্ডাটি বিশেষ ব্যতিক্রম নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ আড্ডায় অংশ নিয়েছেন দেশের সেরা ও প্রতিভাবান অনুষ্ঠান প্রযোজকবৃন্দ। যারা সারা বছর কাজ করেন মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। 


আড্ডায় এনটিভির অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক ও প্রযোজক কাজী মোঃ মোস্তফা বলেন- আমরা সারা বছর বিচ্ছিন্নভাবে টেলিভিশনের জন্য কাজ করি। অনুষ্ঠান নির্মাণ করি। ব্যস্ততার ফাঁকে এরকম আড্ডায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের চিন্তার বিনিময় হলে প্রযোজকদের সৃজনশীলতা বাড়বে। পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। মাছরাঙা টেলিভিশনের সহযোগী অনুষ্ঠান প্রযোজক সৈয়দ যুবায়ের ইকবাল বলেন- প্রযোজকদের কাজের অনেক জায়গা আছে। আড্ডা দেওয়ার কোন জায়গা নেই। প্রযোজকদের কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার জন্য কার্যকর কোন সংগঠন নেই। প্রযোজকদের একত্রিত হওয়া দরকার এবং কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর জন্য সাংগঠনিক দক্ষতা আরও বাড়ানো দরকার। একুশে টেলিভিশন এর অনুষ্ঠান প্রযোজক রাকিবুল আলম রুশো বলেন- আমরা সংখ্যায় কতজন, সেটি বড় বিষয় নয়, আমাদের কাজটি কত গুরুত্বপূর্ণ সেটি বিবেচনার বিষয়। যেকোন টেলিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন প্রযোজকেরা। অথচ সংগঠন করতে গিয়ে আমরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। এ ব্যর্থতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সকল প্রযোজকদের আহ্বান করব- এখন আমাদের কথা বলার সময় এসেছে। এখন আমাদের অধিকার আদায় করার সময়। তাই বিচ্ছিন্ন না থেকে সংঘবদ্ধ থাকতে হবে এবং সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একুশে টেলিভিশন এর অনুষ্ঠান প্রযোজক ও টেলিভিশন প্রডিউসার এসোসিয়েশন, টিপিএ এর সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল শাহীন বলেন- প্রযোজকেরা এর আগে সাংগঠনিকভাবে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছে। নানা কারণে তারা আবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে সফল হতে পারেনি। নিজেদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ের জন্য এবার সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। বিজয় টিভির অনুষ্ঠান প্রধান শরীফ মোঃ নাজমুল হক বলেন- সৃজনশীলতা চর্চার জন্য সংগঠনের চেয়ে আড্ডা অনেক শক্তিশালী। তবে অধিকার আদায়ের জন্য দরকার সংগঠন। এটি সত্য সাংগঠনিক দক্ষতা আমরা প্রমাণ করতে পারিনি। ফলে আমরা আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কাজের সৃজনশীলতা চর্চার জন্য এরকম আড্ডা যেমন অব্যাহত রাখতে হবে, তেমনি অধিকার আদায়ের জন্য সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়া দরকার। প্রযোজক সোহেইল জাফর বলেন- গণমাধ্যমে পেশাজীবি যত সংগঠন আছে, তারা যেভাবে কাজ করছে, প্রযোজকদের সংগঠন সেভাবে কার্যকর অবদান রাখতে পারেনি। এ আড্ডা থেকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার প্রযোজকেরা সৃজনশীলতা চর্চার জন্যে সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। অন্য সংগঠনগুলোর মতো কার্যকর সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশন এর সাবেক অনুষ্ঠান প্রযোজক ফয়েজ রেজা বলেন- আমরা অতীতের ব্যর্থতার গল্প না বলে সামনের সম্ভাবনার কথা বলতে চাই। টেলিভিশনের প্রযোজকেরা অনুষ্ঠান নির্মাণে যেমন দক্ষতা ও সফলতার প্রমাণ দিচ্ছে সাংগঠনিকভাবেও তারা শক্তিশালী হবে এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে। এর জন্য এরকম আড্ডা অথবা নতুন উদ্যোগ অব্যহত রাখতে হবে। এসব আড্ডা ও উদ্যোগে সকল প্রযোজকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আড্ডার সমপনি বক্তব্যে এনটিভির অনুষ্ঠান মহাব্যবস্থাপক ও প্রযোজক জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন- অতীতে আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়ে কার্যকর করতে পারিনি, এটি সত্য। ভবিষ্যতে সাংগঠনিকভাবে আমরা কিভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারি, তার কিছু নির্দেশনা পাওয়া গেছে আজকের আড্ডা থেকে। আমরা আগামীতে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করব- আমাদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য।