• ঢাকা
  • শনিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি, ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : ৮ জানুয়ারি, ২০২২

‘আমার বাংলাদেশ’ হাসপাতালের পরিচালক গোলাম সারওয়ার দুই দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক
টাকা দিতে না পারায় এনআইসিইউ থেকে চিকিৎসাধীন শিশুকে বের করে দেওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শ্যামলীর ‘আমার বাংলাদেশ’ হাসপাতালের পরিচালক গোলাম সারওয়ারের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।  

শনিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুভ্রা চক্রবর্তী তার দুই দিনের দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে র‌্যাব সদর-দফতরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৩-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে হাসপাতালের পরিচালক গোলাম সারওয়ারকে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার গোলাম সারওয়ার র‌্যাবকে জানান, আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে রোগী ভর্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে দালাল নিয়োগ করা আছে। দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেসরকারি ওই হাসপাতালটিতে গত ২ জানুয়ারি যমজ দুই ভাইকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। অন্যথায় চিকিৎসা করা হবে না বলে জানানো হয়। ভিকটিম ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। তবে অতিরিক্ত আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অর্থ না দেওয়ায় চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করে। একপর‌্যায়ে অর্থ না পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভুক্তভোগীর মায়ের যমজ সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টে ভোগা ছয় মাস বয়সী যমজ দুই শিশু—আহমেদ ও আব্দুল্লাহকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন মা আয়েশা বেগম। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শিশু দুটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার কথা বলেন সোহরাওয়ার্দীর চিকিৎসকরা। তবে সেখানে আইসিইউ বেড না থাকায় দালালের মাধ্যমে কম খরচে গত ২ জানুয়ারি যমজ দুই সন্তানকে রাজধানীর শ্যামলীর ‘আমার বাংলাদেশ হাসপাতালে’ নেন আয়েশা বেগম।

সেখানে তিনদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসার পর তাকে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা বিলের কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ওই টাকা যোগাড়ের সাধ্য নেই জানানোর পর আয়েশার সঙ্গে রাগারাগি করেন হাসপাতালের পরিচালকসহ দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মকর্তারা।

আয়েশার দাবি, বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার-দেনা করে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা যোগাড় করেন তিনি। এছাড়া সৌদি প্রবাসী স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক তিনি ১০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠান। সব মিলিয়ে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন তিনি। তবে তাতে সন্তুষ্ট হয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন