• ঢাকা
  • শনিবার, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ২১ অক্টোবর, ২০২১

একই দিনে উদযাপিত তিন ধর্মীয় উৎসব

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]

গতকাল দেশে একইসঙ্গে মুসলিমদের ঈদে মিলাদুন্নবী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার কয়েকদিন পর এক দিনেই এই ধর্মীয় উৎসবগুলো উদযাপিত হলো।

বুধবার মাইজভাণ্ডারী দরবার শরীফ আয়োজিত ধর্মীয় সমাবেশে অংশ গ্রহণকারীরা হাত তুলে বলেন, ‘আমরা ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে মেনে নেব না।’ সমাবেশে আলেম ও সুফিদের পাশাপাশি মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেন।

দরবার শরীফের বর্তমান নেতা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ সমাবেশে শপথবাক্য পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, এ বছর মিলাদুন্নবী কোরআনের নির্দেশনা ও নবী সা. এর শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তঃধর্মীয় ঐক্যকে সমুন্নত রাখার এক অসাধারণ সুযোগ নিয়ে এসেছে।

আহমেদ বলেন, কোরআন ও মহানবী সা. এর অনুসারী মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বাধ্য। অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে হামলা করা মুসলিমদের জন্য হারাম।

নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে যেতে পারে, এমন কোনো মন্তব্য না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশে যারা সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, সেসব দুষ্কৃতকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে- তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-মহাসচিব ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, কল্যাণ পার্টির সভাপতি অব. মেজর জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরাও সমাবেশে যোগ দেন।

সমাবেশে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরিদুল হক খান পীরগঞ্জ থেকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে সমাবেশটি রাজপথে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। এতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে মহানবী সা. এর সার্বজনীন শান্তি ও ঐক্যের বাণী সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়।

একইদিনে হিন্দুরা বার্ষিক কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা উদযাপন করেছেন। পূজাটি তাদের নিজ গৃহে প্রতি দিনের প্রার্থনার মতোই করা হয়।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা কাজল দেবনাথ বাসসকে বলেন, ‘একই দিনে একই স্থানে তিন ধর্মের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন একটি কাকতালীয় বিষয়। কিন্তু আমি এটিকে আন্তঃধর্মীয় ঐক্যকে সমুন্নত রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখি। আমরা সবাই একই স্রষ্টার সৃষ্টি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই কাকতালীয় ঘটনা থেকে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের চেতনায় অনুপ্রাণিত হতে চাই।’

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমাও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তাদের তিন মাসব্যাপী নির্জনবাসের পরিসমাপ্তি ঘটান।

 

[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন