• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর, ২০২১
সর্বশেষ আপডেট : ৮ অক্টোবর, ২০২১

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা

অনলাইন ডেস্ক
[sharethis-inline-buttons]
ভগ শব্দের অর্থ ঐশ্বর্য্য। ভগবতী দূর্গা। তাই, ভগবতী মানেই হলো ঐশ্বর্য্যশালিনী। ঐশ্বর্য্য, বীর্য্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য এই ছয়টি গুণের আঁধারেই তৈরী হয় ভগ।
দেবী দূর্গার মধ্যে এই ছয়টি গুণ পূর্ন মহিমায় বিরাজিত। আবার তিনি হলেন মহামায়া। মায়া শব্দটি এসেছে মা-ধাতু থেকে, অর্থ পরিমাপ করা। মহামায়া মানে হলো মহাপরিমাপনকর্ত্রী।
পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, এই যে মায়া দেখছো, মায়ার যা সব খেলা, এ মায়া আমার (গীতা ৭/১৪) আবার যিনি মহামায়া, তিনিই দূর্গা, তিনিই কালী, তিনি জগৎমাতা-জগদ্ধাত্রী। যুগে যুগে যখনই অর্ধম মাথা চড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করেছে। সৃষ্টি কে ধ্বংস করতে চেয়েছি। তিনি ততবারই তার সৃষ্টি কে এবং তারই সন্তানদের বাঁচানোর জন্যই বিভিন্ন রুপ ধারন করেছিলেন৷
মায়া কে আবার প্রকৃতি নামেও আখ্যায়িত করা হয়৷ দেবীরপূজার প্রক্কালে বোধন করা হয়  বিল্লবৃক্ষে, বোধন মানে হলো জাগরণ কিংবা চেতন। বিবেক জাগ্রত না হলে বিশ্বমানবতার সন্তান হওয়ার যোগ্যতা লাভ করা যায় না৷ শ্রী শ্রী ঠাকুর বলেছেন, বোধন মানে হলো যোগসূত্র। বোধন মানে হলো অন্তরের বাহিরের যা কিছু বুঝে শুনে চলা যায়।
পূজা শব্দের অর্থ হলো সংবর্ধনা অর্থাৎ যার পূজা করে হচ্ছে তার মোহনীয় গুণাবলী সর্ম্পকে চর্চা করে। নিজে কে চরিত্রগত করে তোলা এবং তা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে তোলা।
বাংলাদেশ প্রেম ধর্মের দেশ। মাকে সৌন্দর্যময়ী, প্রেমময়ী, করুণাময়ী হিসেবে প্রত্যক্ষ করতে। তাই তো মাকে মার্কন্ডেয় পুরাণের কাহিনী মতে প্রতিমা রুপে গড়ে পূজা করা হয়। এই পূজার বিশেষত হলো। উমা একবছর পর মেয়ে হয়ে ছেলেমেয়ে কে সাথে নিয়ে বাপের বাড়ী আসেন। এরপর আবার ফিরে যাবেন স্বামীর কাছে কৈলাসে। এখানে একটা ব্যাপার লক্ষ করা যায়৷
ভক্ত ভগবান কে আপন করে পেতে চায়। তাই তো, কেউ চায় সখারুপে, প্রভুরুপে, সন্তানরুপে, প্রেমিকরুপে ভজনা করে থাকেন। ভারতের দ্রাবিড় সভ্যতায় মাতৃতান্ত্রিক দ্রাবিড় জাতির মাতৃদেবীর পূজার প্রচলন হয়।
আর্য সভ্যতায় প্রাধান্য ছিলেন দেবতাদের। অর্নায সভ্যতায় প্রাধান্য ছিলেন দেবীদের, তারা আদ্যশক্তি প্রতীক হিসেবে পূজিত হতেন। বির্সজন শব্দটি বি-সৃজ ধাতু থেকে উৎপন্ন, বিশেষ প্রকারে সৃষ্টি করা। যে দেবীর পূজা করলাম, সেই দেবীর সর্ব মঙ্গলকারিণী স্নেহসুন্দর করে চরিত্র কে বিশেষভাবে  নিজের মনে সৃষ্ট, অর্থাৎ দৃঢ়নিবন্ধ করে তোলা চাই। মায়ের সেবায় আমাদের বৃত্তিগুলো নিয়োজিত করি, তখনই বির্সজনের সার্থকতা।
মহালয়া মানে পূজো চলে এসেছে। মায়ের বন্ধনায় সকলে ব্যস্ত, দেবীর চোখ ফোটানো হয় অর্থাৎ মাটির প্রতিমায় মায়ের চোখ অঙ্কনের কাজ শুরু। বাড়ির বড়দের কেনাকাটা করার আগেই, বাচ্চাদের জন্য কেনাকাটা কর।
পূজো ছয়টা দিন এক রেশ থেকে যায় মনে, সকলে সারাদিন ব্যস্ত এই দালানে, ঐ দালানে ঠাকুর দেখো৷ মন্ডপ সজ্জা, কার থেকে কে বেশি সুন্দর করে সাজিয়েছে মন্ডপ৷ পঞ্চমী তে মন্ডপে ঠাকুর বসানো হয়। ষষ্ঠী তে মায়ের বোধন হয় বেলতলায়৷ সপ্তমী তে চলে প্রান প্রতিষ্ঠা। খিচুড়ি, নাড়ু, নানান ধরনের প্রসাদের সমারহ চলে মন্ডপে মন্ডপে, তরুণ-তরূণীরা রঙিন শাড়ী-পাঞ্জাবী পড়ে ঘুরে বেড়ায়৷
অষ্টমী তে চলে সন্ধিপূজো, একশো আট প্রদীপ জ্বালিয়ে। মায়ের উদ্দেশ্যে সকল অসৎ চিন্তা চেতনা এবং খারাপ বুদ্ধি কে উৎসর্গ করে দেওয়া হয়৷ তার রাঙ্গা চরণে৷
নবমী তে ভোগ প্রসাদ আর পূজোর সন্ধিক্ষণ চলে আসে। সকলে মেতে উঠে উৎসবে, নাচ-গানে মাতোয়ারা। দশমী তে অঞ্জলি নিয়ে সকলে যত দুঃখ, হাসি, কান্না, রাগ, অভিমান ভুলে একে অপরকে গলায় টেনে নেই। সিঁদুর খেলা, মাকে বিদায় বরণ, সকলের মনে দুঃখে ভারাকান্ত। এভাবে মায়ের বিদায় দেওয়া হয় মর্ত্যলোক থেকে, সাথে দেওয়া হয়৷ দুটো কদবেল। কথিত আছে দেবী পুরাণে, এই বেল নাকি তিনি শিবের জন্য নিয়ে যায়৷
পূজোর সবচেয়ে দারুণ মূর্হুতগুলো হচ্ছে নবপত্রিকা এবং কুমারী পূজো৷
এভাবে শারদ উৎসবের শেষ হয়৷ এরপর জড় জীবন আরো একটি বছর প্রহর গুণতে থাকে। দেবী আসবে বলে৷ মহালয়া প্রাতে, বীরেন্দ্র কিশোর ভদ্র দাদুর গলায়, চণ্ডীপাঠ শুনবে বলে৷
লেখক:
জয় চৌধুরী জয়ন্ত
স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম। 
[sharethis-inline-buttons]

আরও পড়ুন