তৃতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৯৯ রান টপকিয়ে পাঁচ উইকেটের এক ছন্দনীয় জয় বাংলাদেশের। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে কঠিন সমীকরণ সহজ হয়ে যায় টিম টাইগারদের। তিন ম্যাচ সিরিজের তিনটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে জিম্বাবুয়েকে বাংলাওয়াশ করলেন টাইগাররা।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ২০০ তম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে তে বাংলাওয়াশের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল টিম টাইগাররা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ডে তৃতীয় ওয়ানডে তে টসে জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মিডল অর্ডার ব্যর্থতার পরেও সিরিজ জয় করে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন টাইগাররা। এদিকে বাংলাওয়াশ এড়াতে প্রথমে ব্যাটিং এ নেমে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার দেখে শুনেই ব্যাটিং শুরু করে। চাকাবা ও মারুমানির দারুণ শুরুতে নবম ওভারে বাঁধা হয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। নবম ওভারের পঞ্চম বলে সাকিবের বলে এল বি ডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান মারু মানি (১৯ বলে ৮ রান) । ওয়ান ডাউনে নেমে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বেন্ডন টেইলর ও ধীরগতিতে শুরু করেন তাদের ইনিংস মেরামতের কাজ। বাংলাদেশের স্পিন অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাক্তিগত দুইশ তম ওয়ানডে ম্যাচে বল করার জন্য অনুরোধ করেন তামিম ইকবাল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের করা আঠারো তম ওভারে টাইগার অধিনায়ক তামিমের কাছে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক বেন্ডন টেইলর। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় ক্রিজে আসেন ডিওন মের্য়াস। ওপেনার চাকাবার সাথে মের্য়াস এর পঞ্চাশ রানের পাটনারশীপ টাইগারদের দুশ্চিন্তা হয়ে দাড়ান। ত্রিশ তম ওভারে আবারো সাইলেন্ট কিলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্রেক থ্রো তে বোল্ট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মের্য়াস (৩৮ বলে ৩৪)। পাঁচে নামা মাদেভেরি ক্রিজে এসে সুযোগ তৈরি করার আগেই ইনজুরি কাটিয়ে ম্যাচে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন( ৪ বলে ৩)। দলীয় ১৭২ রানের মাথায় তাসকিনের বলে বোল্ট হয়ে সাজঘরে ফিরেন এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা রেগিস চাকাভা (৯১বলে ৮৪)। তবুও যেন জিম্বাবুয়ে কে আটকিয়ে রাখতে পারেনি টাইগাররা। সিকান্দার রাজা ও রায়ান ব্রুর আগ্রাসী ব্যাটিং প্রতিরোধে কঠিন সমীকরণে ফেলে দেয়। সিকান্দার রাজার ৫৪ বলে ৫৭ ও রয়ানের ৪৩ বলে ৫৯ রান রানের সুবাদে ২৯৮ রান তুলে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ কে জিততে ২৯৯ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেয় টেইলর এর জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে ৩ টি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ এবং সাইফুদ্দিন, মাহমুদউল্লাহ নেন ২ টি উইকেট। তাসকিন সাকিব নেন ১ টি করে উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৯ রানের টার্গেটে ব্যাটিং এ নামেন প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা লিটন কুমার দাস ও ফর্মে থাকা তামিম ইকবাল। শুরুতে দেখে শুনে ব্যাটিং করে দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান। তামিম ও লিটনের ৮৮ রানের পার্টনারশীপ ২৯৯ রানের লক্ষ্য ছুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৮৮ রানের মাথায় মাদিভিরির বলে মারুমানির হাতে তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরেন লিটন(৩৭ বলে ৩২ রান)। প্রথম উইকেটর পর বিপদ ঘটতে দেয়নি দ্বিতীয় ম্যাচে অপরাজিত ৯৬ রানের বিজয়ী ইনিংস খেলা সাকিব আর হাসান। ধীরগতিতেই এগিয়ে নিয়ে যায়৷ দলকে। ছাব্বিশ তম ওভারে দলীয় ১৪৭ রানের মাথায় সাকিব আল হাসানের ১টি ছয় ও ১ টি চারে ৩০ রানের ইনিংসে বাধা হয়ে দাঁড়ায় লুকি জনগুয়ে। লুকি জনগুয়ের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে চাকাভার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন সাকিব। দ্বিতীয় ওয়ানডে তে মিডল অর্ডার এর ব্যর্থতা যতটা ধুঁকিয়ে ছিলো বাংলাদেশকে, সেটার পুনরাবৃত্তি হতে দেয়নি চারে নামা মোহাম্মদ মিথুন।ঠান্ডা মাথায় সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবালকে। মাঠের ওপাশে চিরচেনা তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে জয়ের অগ্রীম বার্তা দিয়েছেন দলকে। ৮ টি চার ও ৩ টি ছক্কার মারে ৯৭ বলে ১১২ রান করা তামিম ইকবাল টিরিপানোর বলে চড়াও হতে গিয়ে চাকাভার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন।

পরের বলে মাঠে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কে বুঝে না উঠতেই প্রথম বলে সাজঘরে ফেরান। তখন টাইগাররা কিছুটা বিপদে পড়লেও নুরুল হাসান সোহান (৩৯ বলে ৪৫)ও আফিফ হাসানের (১৭ বলে ২৬) ছন্দনীয় বাটিং এ পাঁচ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেই টিম বাংলাদেশ। এতে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলকে বাংলাওয়াশ করেন টাইগার বাহিনী।ওয়ানডে সুপার লিগের আরো গুরুত্বপূর্ণ ১০ পয়েন্ট টিম বাংলাদেশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
জিম্বাবুয়েঃ ২৯৮/১০।
চাকাটা ৮৪,রায়ান ৫৯,সিকান্দার রাজা ৫৭।
মোস্তাফিজ ৩/৫৭,সাইফুদ্দিন ৩/৮৭,মাহমুদউল্লাহ।
বাংলাদেশঃ ৩০২/৫।
তামিম ১১২,সোহান ৪৫,সাকিব ৩০,আফিফ ৩০।
মাদিভেরি ২/৪৫,ট্রিপানো ২/৬১।