ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলিমদের ত্যাগের উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ আসন্ন। কোরবানি অর্থ নৈকট্য, ত্যাগ–তিতিক্ষা। যেকোনো ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই হলো কোরবানি। আগামী আরবি ১০ জিলহজ ও ইংরেজী ২১ জুলাই দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদ মানে আত্মার পরিশুদ্ধি, ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সৌহার্দ্য ও সংহতি প্রকাশের এক উদার উৎসব।

ঈদকে সামনে রেখে বর্তমান ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতেও দেশব্যাপী চলমান বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচল, শপিংমল খুলে দেওয়া ও পশুর হাট বসার অনুমতি দিয়েছে সরকার। ফলে উপচেপড়া ভিড় সর্বত্রই, যার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা থাকবে সবচেয়ে বেশি। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। এই ঈদকে ঘিরে অনেক আগে থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন জল্পনা, কল্পনা ও প্রস্তুতিপর্ব। ঈদ মানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতাকে ঝেড়ে ফেলে, যান্ত্রিকতার শিকল ছিঁড়ে কিছুদিনের জন্য হলেও শেকড়ের টানে ফিরে যাওয়া। সামাজিক মেলবন্ধনের অবারিত উৎসবে মেতে থাকার সময় এই ঈদ। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই বেঁচে থাকার তাগিদেই বা সময়ের প্রয়োজনেই কচুরিপানার মতো অন্য ভুবনে ভেসে বেড়ানো মানুষগুলো প্রস্তুতি নেয় শেকড়ে ফিরে যাওয়ার । ঈদের দুই একদিন আগেই প্রায় সবাই পৌঁছে যায় তার প্রিয় ভুবন, তার নিজ বাড়িতে । যেখানে মা-বাবা তার প্রিয় সন্তানকে দেখার অপেক্ষায় থাকেন। এই ভয়াবহ করোনা মহামারীর সময়ে একটু অসাবধানতা জন্ম দিতে পারে দুর্বিষহ পরিণামের। তাই আমাদের উচিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে, নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে গণপরিবহন চলাচল করা।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমজমাট হতে শুরু করেছে। সারা বছর কঠোর পরিশ্রম দ্বারা অর্থসঞ্চয় করে কোরবানীর পশু ক্রয় করতে যাওয়া এবং সারা বছর ধরে কোরবানীর পশুকে লালন পালনের মাধ্যমে বিক্রয়ের জন্য হাট বাজারে এসে কিছু টাকা মুনাফার স্বপ্ন নিয়ে এসে ছিনতাইকারীদের কবলে পরে সব হারানোর মতো বহু ঘটনা ঘটছে প্রতি বছরই। হাটে কোরবানীর পশু ক্রয়, বিক্রয়ের ব্যস্ততার সুযোগ নেয় ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি সহ প্রতারকেরা। পশুর হাট ও শপিংমল সহ যেকোনো জায়গায় কেনাকাটায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে যেমন মাস্ক পরিধান করা জরুরি, তেমনি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। পবিত্র ঈদ ও কোরবানীর ত্যাগের আনন্দকে মাটি করে দিতে উৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। এসব ছিনতাইকারীরা না বুঝে কারো কষ্ট, না বুঝে কারো স্বপ্ন, না শুনে ধর্মের বানী। টাকা লেনদেনের সময় জাল টাকা কিনা সেদিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হাতে মোবাইল, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা রাখা যাবে না। পকেটে রাখলেও সতর্ক থাকতে হবে।

কোভিড পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। জনসংগম এড়িয়ে চলতে হবে। ঘোরাঘুরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা একটু অসাবধানতা ঈদের আনন্দকে ধূলিস্যাৎ করে বিষাদে পরিণত করে দিতে পারে। তাই সর্বময় সতর্কতা অবলম্বন করার কোন বিকল্প নেই। সব ভেদাভেদ ভুলে হানাহানি প্রতিহিংসার সব অস্ত্রকে ছুড়ে ফেলে ভালোবাসা ও ন্যায়ের মূল্যবোধে আমরা জেগে উঠি সবাই। শুধু ঈদের দিন নয় বছরের ৩৬৫ দিনই রঙিন হয়ে আনন্দ নিয়ে আসুক সবার জীবনে। ঈদ হোক আনন্দময় ও নিরাপদ।

 

চন্দন মন্ডল

শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা