করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে টিকাদানের হারে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে কানাডা। করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ অর্থাৎ টিকার সম্পূর্ণ ডোজ প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবেশির চেয়ে এগিয়ে গেছে উত্তর আমেরিকার এই দেশটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জুলাই মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ কানাডীয় নাগরিক করোনা টিকার উভয় ডোজ নিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে এই হার ৪৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।

এদিকে বর্তমান গতিতে কানাডায় টিকাদান কর্মসূচি চলতে থাকলে মার্কিন পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে পারে বলে চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে টানা প্রায় ১৬ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত বন্ধ রয়েছে।

অবশ্য টিকাদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী- চলতি জুলাই মাসের ৪ তারিখের মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিনিকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সময়ের মধ্যে ১৮ বা তার বেশি বয়সী প্রায় ৬৮ শতাংশ আমেরিকান কমপক্ষে একটি টিকা নিয়েছেন।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৬ জন করোনায় আক্রান্ত এবং ৬ লাখ ২৪ হাজার ৭১৩ জন মারা গেছেন। করোনা মহামারি প্রতিরোধে দেশটি আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনার কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১২ বছরের বেশি বয়সী দেশটির ৭৮ শতাংশের বেশি মানুষ কোভিড টিকার অন্তত এক ডোজ নিয়েছেন। এছাড়া ১২ বছরের বেশি বয়সী প্রায় সাড়ে ৪৮ শতাংশ মানুষ টিকার দুই অর্থাৎ সম্পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন।’

গত বৃহস্পতিবার কানাডার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে তাদের উপকূলে তারা বড় প্রমোদতরীগুলো ঢুকতে দেবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রমোদতরীগুলোতে থাকা প্রত্যেকের স্বাস্থ্যবিধি ও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

গত সপ্তাহে জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছিলেন যেসব বিদেশি পর্যটক টিকা নেননি তাদের আপাতত কানাডায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপে যে উন্নতি হয়েছে তা যাতে ভেস্তে না যায় এ জন্যই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিলেন তিনি।