ওয়ানডে সিরিজে এই পাকিস্তানই খেলেছিল বুঝি? সাদা বলের দীর্ঘতর ফরম্যাটে ধবলধোলাই হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাবর আজমদের এমন পারফর্ম্যান্স আপনাকে এমন এক প্রশ্নের মুখেই দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, ক্ষুদ্রতর সীমানা দড়ি… সব মিলিয়ে রান উৎসবের আভাস মিলছিল শুরু থেকেই। দুই দলই শামিল হলো সেই রান উৎসবেই। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির কথা হিসেবে আনলে এগিয়ে ছিলেন ইংলিশ লিয়াম লিভিংস্টোনই, কিন্তু দলের অর্জনের খাতাটা পুরল পাকিস্তানের। প্রথম টি-টোয়েন্টি রান-উৎসবের পর সফরকারীরা জিতল ৩১ রানে।

টেন্ট ব্রিজে শনিবার রাতে পাকিস্তান টসে জিতেছিল, নিয়েছিল ব্যাট করার সিদ্ধান্ত। রান উৎসবের এই উইকেটে এমন সিদ্ধান্ত যে ভুল কিছু নয় সেটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল উদ্বোধনী জুটিতেই। মাত্র ১১.২ ওভারেই যে রিজওয়ান শাহ আর বাবর আজমের জুটি ছুঁয়ে ফেলে দলীয় শতরানের মাইলফলক। রিজওয়ান পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেন ৩৪ বলে, আর এর একটু আগে বাবরের ৫০ হয় ৩৫ বলে।

শতরান ছুঁয়েই থামেনি দু’জনের ঝড়। ১৪.৩ ওভারে যখন রিজওয়ান ফিরছেন ৪১ বলে ৬৩ করে, তখন দলের রান হয়ে গেছে ১৫০।

দারুণ শক্ত ভিত পেয়ে এরপরের ব্যাটসম্যানরা যেন খুনে হয়েছেন আরও। শোয়েব মাকসুদ করেছেন ৭ বলে ১৯, বাবর অবশ্য শতরান ছুঁতে পারেননি, থেমেছেন ১৫ রান আগে। এরপর ফখর জামানের ৮ বলে ২৫ আর মোহাম্মদ হাফিজের ১০ বলে ২৪ ও ভর করে পাকিস্তান গড়ে ২৩২ রানের এভারেস্ট, যা পাকিস্তানের ইতিহাসেই টি-টোয়েন্টি সর্বোচ্চ।

তবে টি-টোয়েন্টির এই যুগে ২৩২ যে নিরাপদ নয়, ইংলিশদের ইনিংসের শুরু থেকেই তা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন জেসন রয়। অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে ফিরছিলেন দাভিদ মালান, জনি বেয়ারস্টো ও মইন আলিরা। তবে রয়ের ঝড় চলছিলই। দলীয় সপ্তম ওভারে শাদাব খানের শিকার হয়ে ১৩ বলে ৩২ রান করে যখন ফিরছেন ইংলিশ ওপেনার, দলের রান ততক্ষণে চড়ে গেছে রকেটে, হয়ে গিয়েছে ৮৪ রান, মাত্র ৪০ বলেই!

এক ঝড় থামিয়ে কোথায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে পাকিস্তান, লিয়াম লিভিংস্টোন তা হতে দিলেন কই? ব্যক্তিগত দুই রানে একটা ভুল করেছিলেন অবশ্য, বাউন্ডারি লাইনে মোহাম্মদ হাসনাইনকে তুলে দিয়েছিলেন ক্যাচ, কিন্তু তা শেষমেশ হয়েছে ছয়। সেই শুরু লিভিংস্টোন ঝড়ের। এরপর যা ক্রমেই প্রলয়ঙ্করী রূপ নিয়েছে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ওপর।

ইংলিশ অলরাউন্ডার অর্ধশতক ছুঁয়েছেন ১৭ বলে, শতকের মাইলফলকে গিয়েছেন মাত্র ৪২ বলে। তাতে দুটো রেকর্ড ভেঙে ফেলেন তিনি। ইংলিশদের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটি আর সেঞ্চুরির রেকর্ডটা নিয়ে আসেন নিজের দখলে। দুই বছর আগে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যে রেকর্ডদুটো গড়েছিলেন এওইন মরগান (২১ বলে ৫০) আর দাভিদ মালান (৪৮ বলে ১০০)।

তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। মরগান, লুইস গ্রেগরি আর ডেভিড উইলি তিনজনের ইনিংসই শেষ হয়েছে ২০ রানের আগে। যে কারণে বিফলে যায় লিভিংস্টোনের কীর্তি। ইংলিশদের ইনিংস শেষ হয় লক্ষ্যের ৩২ রান আগে। ৩১ রানের দারুণ এক জয় নিয়ে পাকিস্তান সিরিজটা শুরু করে দারুণভাবে।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে আগামী রোববার। বাবরদের সিরিজ জয় আর ইংলিশদের নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের ভেন্যুটা হবে লিডস।