ত্যাগের মহিমা নিয়ে আগামী ২১ জুলাই পালিত হবে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। তাই ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে মানুষ কোরবানীর পশু ক্রয়ে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। এদিকে কঠোর লকডাউনের কারণে রাজধানীতে অনলাইনে গরু ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ থাকলেও আজ থেকে রাজধানী ঢাকায় ১৮টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮টি হাট বসবে। এতে করে অনেকটাই খুশি পশু বিক্রেতারা। তাইতো নানান বাহারি নামে পশুর নাম রেখে আজ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে পশু নিয়ে আসবেন পছন্দের দামে বিক্রি করতে। তবে প্রস্তুত হওয়া পশুর হাট গুলো পরিদর্শন করতে গাবতলী পশুর হাটে সরোজমিনে গেলে দেখা যায় শনিবার ১৭ জুলাই থেকে পশুর হাট বসার কথা থাকলেও ১ দিন আগে শুক্রবার থেকেই বিক্রেতারা পশু নিয়ে হাজির হয়েছেন। এতে ক্রেতাদেরও অনেক ভিড় করতে দেখা যায়। অনেক ক্রেতা বলছেন শুক্রবার অফিস বন্ধ থাকার কারণে গরুর দামদর দেখতেই হাটে এসছেন। অনেকেই আবার পছন্দের গরুটি কিনতে প্রস্তুতি নিয়েই ভিড় করছেন পশুরহাটে। তাছাড়া ঈদের আগে শেষ শুক্রবার হওয়ায় আজ ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায় তারা গত দুইদিন ধরে হাট গুলোতে গরু নিয়ে আসছেন তবে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি ছিলো না। কিন্তু শুক্রবার হঠাৎ ক্রেতাদের ভিড় বাড়ায় তারাও পশুর দামদর করতে পারছেন।

গাবতলী পশুরহাট সরাসরি পরিদর্শন করে দেখা যায় সকাল থেকেই বিক্রেতারা হাটে গরু নিয়ে আসতে শুরু করে। দুপুর না গড়াতেই হাটের মূল অংশ গরু দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়। এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-মহিষ নিয়ে আসা ট্রাকগুলো বেড়িবাঁধে জড়ো হতে দেখা গেছে। সেখান থেকে গরু নামিয়ে বাঁধা হচ্ছে হাটের বর্ধিত অংশে। তবে দুপুর পর্যন্ত ক্রেতাদের তেমন আনাগোনা না দেখা গেলেও বিকেল গড়ার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। তবে পুরো পশুরহাট ঘুরে দেখা যায় সাধারণ মানুষ এবং বিক্রেতাদের মধ্যে একবারেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। অনেক বিক্রেতাকেই মাক্স পড়তে দেখা যায়নি। এছাড়াও মানুষের ভিড়ে হারিয়ে গেছে স্বাস্থ্যবিধি।

গাবতলী পশুর হাটে সজিব হোসেন নামে এক ক্রেড়ার সাথে কথা বললে তিনি  জানান, করোনাভাইরাসের কারণে ভিড় এড়াতে আগেভাগেই তিনি গরু কিনতে এসছেন। কিন্তু তিনি বলেন এখানে এসে যে ভিড় দেখছি তাতে মনে হচ্ছে যত তাড়াতাড়ি গরু কিনে নিয়ে যেতে পারি ততই উত্তম হবে।

এদিকে পশুর দাম নিয়ে কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, গতবছরের তুলনায় পশুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছে বিক্রেতারা। অনেক ক্রেতা আবার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, করোনার মহামারির কারনে ব্যবসা-বানিজ্য এবং অনেকে ঠিকমত বেতন পায় নি। তাই কম দামে পছন্দের গরু কিনতেই তারা হাটে এসছেন।

ক্রেতাদের এমন অভিযোগে বিক্রেতাদের সাথে কথা বললে রাজশাহী থেকে আসা শাহিন আলম নামে এক বিক্রেতা  জানান, ‘আমাগর নিজের খামারে নিজ হাতে লালন-পালন করা গরু। খাবারের দাম বেশি, যাতায়াত খরচ বেশি। করোনার কারনে ঢাকায় গরু আনতেও ম্যালা টাকা খরচ করছি । দাম বেশি না চাইলে পুঁজিও উঠাইতে পারুম না। তাই দাম বেশি না চাইয়া উপায় আছে কন।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ ৪৬টি শর্ত জুড়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। যারা এই হাট ইজারা পেয়েছেন বা পশু কিনতে হাটে যাবেন, তাদের এই শর্তগুলো মেনে বেচাকেনা করতে হবে। আর ইজারাদার এই শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের ইজারা বাতিলসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

স্বাস্থ্যবিধি ও হাটের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে হাটের ইনচার্জ সজিব সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, শুক্রবার যেভাবে মানুষের ভীড় দেখছি তাতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের উদ্দেশ্যে আমরা সার্বক্ষণিক মাইকিং করছি। হাট ইজারাদারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য আমরা ৪০ জন দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া রাইটার ও চেকার রাখা হয়েছে ৫০০ জনের বেশি।’