আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা নেই বিএনপির। নেই দল গুছিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করার কর্মকাণ্ডও। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে বিএনপি। দলের অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর একই অবস্থা। ক্ষমতাসীন দলের হামলা- মামলা হয়রানীর ভয়ে মাঠ পর্যায়ে তুলণামূলক কম কর্মসূচি পালন করলেও করোনা ভাইরাসের কারনে মাঠের রাজনীতিতেও নেই দলটি। নামকাওয়াস্তে ভার্চুয়াল কিছু কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও আগামী দুই বছর পর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বিএনপিকে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। দলটির সামনে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এই ইস্যূতে নীরব সিনিয়র নেতারা। গত ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে এক যুগের বেশি সময় লন্ডনে বসবাস করছেন তারেক রহমান। অন্যদিকে দুটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে কারামুক্ত হলেও সাড়ে তিন বছর ধরে রাজনীতি থেকে দূরে আছেন। শারীরিকভাবে তিনিও অসুস্থ। ফলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এখন বিএনপি চলছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি এখনো ঐক্যবদ্ধ আছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব; কিন্তু এ নিয়ে খোদ দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এদিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কর্মকান্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খোদ দলের নেতারা। ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন হতাশায় ভূগছেন। তারা জানেন না – কোন পথে চলছে বিএনপি। এই দলের ভবিষ্যত রুপরেখা কী? দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন,এদেশের গণমানুষের দল বিএনপি। তাই গণমানুষের গণতন্ত্র উদ্ধারে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এ আন্দোলন অব্যাহত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ আন্দোলন রাজপথে গড়াবে। গণ আন্দোলনের মধ্যে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলন সফল হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে দলের নীতিনিধারনী ফোরামে আলোচনা হয়। কখণ কি করতে হবে তা দল করবে। সময় হলেই সব স্পষ্ট হবে। কমিটি গঠণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল। এ দলের কাউন্সিল করতে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। আমরা প্রস্তুত আছি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। আর অঙ সহযোগী সংগঠনের কমিটি চলমান প্রক্রিয়া। ধারাবাহিকভাবে সব কমিটি ঘোষিত হবে।

বিএনপি নেতারা জানায়, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কিছু পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু বিএনপির কোন পরিকল্পনাই নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারের কাছ থেকে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতারাও কাজ করবেন। গুচ্ছ গুচ্ছ কর্মকাণ্ড এক সময়ে বৃহৎকারে রুপ নেবে। এই কর্মকান্ড ঘিরে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা থাকেন। এই কর্মকান্ডেই ধীরে ধীরে সরকার বিরোধী জনমত গড়ে উঠবে। তারপর নির্ধারিত সময়ে সরকার পতনের আন্দোলনে যাবে দল। সেই আন্দোলন দলের নেতাকর্মী সমর্থকসহ জনগনের সমর্থনে সফল হবে। কিন্তু বিএনপির এমন কোন পরিকল্পনার বিষয়ে জানেন না কেন্দ্র থেকে তৃনমূলের নেতারা। এমনকী দলের নীতিনির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও জানেন না বিএনপির ভবিষ্যত রাজনৈতিক কর্মকান্ডের রূপরেখা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক হত কম। কিন্তু যে বৈঠকগুলো হত সেগুলো ছিল কার্যকরী। সরকার বিরোধী আন্দোলন ও কর্মকান্ডের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করা হত।হয়তো সরকারের বাধায় ততটা সফল হত না। কিন্তু এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতি শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয় না। আর কিছু সিদ্ধান্ত হলেও তার বাস্তবায়ন হয় না। উল্টো সিনিয়র নেতাদের মধ্যে চলে কাদাছোড়াছুরি। এনিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামে কর্মকান্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছে দলের নেতারা। বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি নাই। তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন আবেদন ও আবদারের জায়গা হয়ে ওঠে মহাসচিবের কাছে। কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা কোন আবেদন নিয়ে গেলেও তার কোন সমাধান দিতে পারেন না মহাসচিব । সমাধান ঝুলে থাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় নেতাদের মাঝে। এমন বেশ কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নেতাকর্মীদের সমস্যার সমাধান দিতে না পারলে পদে থাকার প্রয়োজন কী? মহাসচিবের পদ থেকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ করা উচিৎ। গত ২০ জুন রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় জাতীয়তাবাদী যুবদলের পদবঞ্চিত কয়েকজন নেতার তোপের মুখে পড়েন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তখন পদবঞ্চিত যুবদল নেতারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানান। পদবঞ্চিত নেতারা ফখরুলকে বলেন, পাঁচ বছর ধরে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয় না। বিভিন্ন সময় মানববন্ধন-সমাবেশ এবং স্মারকলিপি দেওয়ার পরও কমিটি দেওয়া হচ্ছে না। দলের জন্য জীবন পার করে দিলাম। হামলা-মামলার শিকার হলাম। তারপরও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের যা প্রাপ্য তা দেওয়া হচ্ছে না কেন?

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় মহানগর জেলা উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিটের কমিটির সংকট ও সমস্যা নিয়ে দলীয় কার্যালয় এবং মহাসচিবের উত্তরার বাসায় উপস্থিত হয়ে আবার লিখিত আবেদন দেন ভূক্তভোগী নেতারা। কিন্তু দিন মাস বছরের পর বছর চলে গেলেও সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। আর যোগাযোগ করলেই শুধু গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রামের কথা বলে এড়িয়ে যান মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সুত্রমতে, মেয়াদোত্তীর্ন কমিটি দিয়েই চলছে বিএনপি। দলটির অঙ্গসংগঠন ৯টি আর সহযোগী সংগঠন দুটির ও একই অবস্থা। ফলে ছাত্রদলের সাবেক ৫ শতাধিক নেতা এখন পদহীন পরিচয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় তারা কোথাও জায়গা পাচ্ছেন না। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলেরও বেশ কিছু সাবেক নেতা এখন পদহীন। অঙ্গসংগঠনের কমিটি-জট না কাটায় বিএনপির হাইকমান্ডও তাদের বিষয়ে কোনো ফয়সালা দিতে পারছেন না। পদবঞ্চিত সাবেক ছাত্রনেতারা বলছেন, নিজেদের নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা কমিটি নিয়ে ভাবছেন না। এদিকে, কাউন্সিল করে ছয় মাসেও কমিটি দিতে পারেনি কৃষক দল।

যুবদল : ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ১১৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বিগত দিনের সাবেক ছাত্রদল নেতাদের পদায়ন সম্ভব হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে ঘোষণা করা হবে, তা কেউ জানে না। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের কমিটিও রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণের তালিকায়। সুপার ফাইভ কমিটি দিয়েই তাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে যুবদল সূত্র জানায়, সারা দেশে সাংগঠনিক ৮২ জেলার প্রায় সবই কমিটি হয়েছে। পৌর, থানা, উপজেলা পর্যায়েও ৯৩৫টি ইউনিটের মধ্যে কমিটি হয়েছে ৭০০টির।

ছাত্রদল : ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিলে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি ও ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিন মাস পর ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর ৬০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বয়সের সীমা বেঁধে দিয়ে গঠিত সংগঠনের নতুন কমিটিকে গতিশীল করতে নানা চেষ্টা চালাচ্ছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। সেপ্টেম্বরে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি হবে, নাকি বর্তমান কমিটির মাধ্যমেই ছাত্রদল পরিচালিত হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে বর্তমান নেতৃত্বের বাইরেও বিকল্প ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, বর্তমান নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে না পারলেও প্রথমবারের মতো সারা দেশে পৌর, উপজেলা ও কলেজ শাখায় ১ হাজার ৪৩১টির মতো কমিটি দেওয়া হয়েছে। সমমর্যাদার মাত্র দুই শতাধিক কমিটি গঠন বাকি আছে। তবে ১৪৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মাত্র ঢাকা জেলা উত্তর, ঢাকা জেলা দক্ষিণ, খুলনা মহানগর, চট্টগ্রাম মহানগর, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও টাঙ্গাইল জেলার আহ্বায়ক কমিটি দিতে পেরেছে ছাত্রদলের বর্তমান নেতৃত্ব। এ ছাড়া ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৯টি মেডিকেল কলেজ শাখার কমিটিও হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে,পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। দলীয় কার্যালয়ের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সুপার ফাইভ ১ জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পূর্ণাঙ্গকরণের আশ্বাস দিলেও তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দল : ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঘোষিত কমিটিতে সংগঠনের সভাপতি করা হয় প্রয়াত শফিউল বারী বাবুকে। সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। মেয়াদ শেষের এক বছর পর গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর সুপার ফাইভ কমিটিকে ১৪৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে পরিণত করে আংশিক কমিটি করা হয়েছে। এরপর আরেক দফায় ১০ জনকে সদস্য ও কিছু উপদেষ্টা ঘোষণা করা হয়। সব মিলিয়ে কমিটি এখন ১৭২ সদস্যবিশিষ্ট। পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে সারা দেশে সাংগঠনিক ৮১ টি জেলার প্রায় সবটিরই কমিটি সম্পন্ন হয়েছে সংগঠনটির। এ ছাড়া ছয় শতাধিক জেলা ও থানার কমিটি হয়েছে।

শ্রমিক দল : ২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের জাতীয় কাউন্সিলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।দুই বছরের কমিটি পা রেখেছে সাত বছরে। একাধিকবার সময় দিয়েও কাউন্সিল করতে পারেনি শ্রমিক দল।

কৃষক দল : দীর্ঘ ২২ বছর পর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের চার মাস পার হলেও কমিটি ঘোষণা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কৃষক দলের কমিটি ভেঙে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদুকে আহ্বায়ক এবং কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সদস্য সচিব করে ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আজও কমিটি ঘোষণা হয়নি।

মহিলা দল : ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মহিলা দলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটিকে গত বছর ৪ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ করা হয়। কিন্তু একাধিক গ্রুপে বিভক্ত এ সংগঠনকে এড়িয়ে চলছেন খোদ মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা। এ সংগঠনের সাধারণ নেতা-কর্মীরা এখন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামসহ অন্যান্য সংগঠনে জড়িয়ে পড়ছেন।

মৎস্যজীবী দল : ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১০ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ মৎস্যজীবী দলের কমিটিকে ভেঙে সংগঠনের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও আবদুর রহিমকে সদস্য সচিব করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পেরোলেও নতুন কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নেই।

জাসাস : ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারির গঠিত জাসাসের আংশিক কমিটিকে গত বছর ২৩ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ করা হয়। কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলয়ের নেতা-কর্মীদের পাল্লা ভারী করার প্রতিযোগিতায় বেশির ভাগ নতুন মুখ নিয়ে আসা হয়েছে, যারা কোনো দিন এ সংগঠনে সম্পৃক্তই ছিলেন না। এমনকী পদ-পদবী পাওয়ার পর তাদের দলের কর্মকান্ডে দেখা যায়নি। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নতুন কমিটির দাবিতে তারেক রহমানের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন।

ওলামা দল : ১৪ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ ওলামা দলের কমিটি ভেঙে ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিল সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হককে আহ্বায়ক এবং মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদারকে সদস্য সচিব করে ১৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে মেয়াদ শেষে এখন পর্যন্ত কাউন্সিলের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে পারেননি এ সংগঠনের নেতারা।