জীবনে চলতি পথে অনেক বন্ধু হয়। নাম মাত্র বন্ধুর বুলি দিয়ে জীবন পর্যন্ত কেঁড়ে নেয়। তবে প্রকৃত দ্বীনি আল্লাহ ওয়ালা বন্ধু হতে পারে আপনার নাজাতের মাধ্যম।তাই জেনে নেই কোন সে বন্ধু সে জান্নাতে খুঁজবে আপনাকে।

জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি, “যখন জান্নাতিরা জান্নাতে অধিষ্ঠিত হয়ে যাবে তখন তারা পৃথিবীতে থাকাকালীন সময়কার স্মৃতিচারণ করবে। তখন তাদের বন্ধুদের কথা মনে পড়ে যাবে।

তারা ফেরেশতাদের জিজ্ঞেস করবে, আমি তো আমার সেই বন্ধুকে জান্নাতে দেখছি না, সে কোথায়?বলা হবে, সে তো জাহান্নামে। তখন সেই মু’মিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বলবে, হে আমার রব! আমার বন্ধুকে খুব মনে পড়ছে। তাকে ছাড়া আমার কাছে জান্নাতের আনন্দ যে পরিপূর্ণ হচ্ছে না।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা আদেশ করবেন অমুক ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানোর।”

তার বন্ধু জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেল এই কারণে নয় যে, সে রাতভর ইবাদাত করত, কিংবা কুরআন পড়ত, বেশি বেশি সাদাকাহ করত, দিনের পর দিন রোজা রাখত! বরং সে মুক্তি পেল কেবলই এই কারণে যে তার বন্ধু তাকে স্মরণ করেছে। তার জান্নাতী বন্ধুর সম্মানের খাতিরে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

জাহান্নামিরা তখন অবাক হয়ে জানতে চাইবে, কি কারণে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হল, তার বাবা কি শহিদ? তার ভাই কি শহিদ? তার জন্য কি কোন ফেরেশতা বা নবী সুপারিশ করেছেন?

বলা হবে, না, বরং দুনিয়াতে তার যে নেককার বন্ধু ছিল, সেই বন্ধু জান্নাতে তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেছে।

এই কথা শুনে জাহান্নামীরা আফসোস করে বলবে হায়! আজ আমাদের জন্য কোন সুপারিশকারী নেই হায়! আমাদের এমন কোনো সত্যিকারের বন্ধু নেই।
এরপর তিনি এই আয়াত দু’টি তিলাওয়াত করেন,
فَمَا لَنَا مِن شَـٰفِعِینَ
وَلَا صَدِیقٍ حَمِیمࣲ
“আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
আর কোন সহৃদয় বন্ধুও নেই।”
[সূরা শু’য়ারা : ১০০-১০১]

এ ঘটনা উল্লেখের পর ইমাম হাসান বসরী (রহ.) বলেন, অতএব, তোমরা বেশি বেশি নেক লোকদের সঙ্গ অবলম্বন করো৷কাল কেয়ামতের ময়দানে তারা আপনার সঙ্গী হবে।