ইতিহাস বিকৃত করা যায় কিন্তু ইতিহাস রোধ করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক প্রফেসর ড. মেসবাহ কামাল।

সোমবার (৭ জুন) সকালে ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। শহীদ ডা. মিল্টন হল রুমে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ” বিভিন্ন সময়ে ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে ফলে সাময়িক ভাবে তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হয়েছে মাত্র কিস্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায়নি” ৬-দফা নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এই প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ বলেন, ” ৬-দফার প্রথম দফাতে ছিল প্রজাতান্ত্রিক সংবিধানের ভিত্তিতে সংসদীয় সরকারের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ চালাতে হবে।

এছাড়া অন্য দফা গুলোতে ছিল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সম্পর্ক ব্যতিত অন্য কোনো বিষয় কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকবে না। দ্বৈত মূদ্রা ব্যবস্থা, বৈদেশিক আয়ের আলাদা হিসেব, পণ্য বিনিময় হবে শুল্ক বিহীন ও পূর্ব পাকিস্তানকে সাবলম্বী করতে থাকতে হবে আধা-সামরিক রক্ষী বাহিনী। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ৬-দফা হলেও মূলত দফা ছিল একটাই, আর তা হলো স্বাধীনতা।”

মাওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি বলেন, “মাওলানা ভাসানী ১৪ দফা দিয়েছিলেন যেখানে মাত্র একটি দফা ছিল স্বায়ত্তশাসন আর বঙ্গবন্ধুর ৬-দফার প্রতিটি দফাই ছিল স্বায়ত্ত্বশাসন।” বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বনেতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু সময়কে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তার প্রজ্ঞা শক্তি দিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা রক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।”

বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা হত্যা করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কিছু বাঙালি কুলাঙ্গার বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে কিন্তু তার আদর্শ মুছে ফেলতে পারেনি। তাই স্বাধীনতা বিরোধিতাকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার এদেশে থাকা উচিৎ নয়।” পরিশেষে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ডাক্তারদের অবদানের নিয়ে ইতিহাস রচনার তাগিদ দেন প্রফেসর মেসবাহ কামাল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।