২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে শুধু ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতেন গ্রাহকরা। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবার মোবাইল ফোন ব্যবহারে তিন শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। এরপর থেকে হোক কথা বলা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার- প্রতিবছর কর বাড়ছেই। সবশেষ করোনার মধ্যেই চলতি অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। মাঝে যোগ হয়েছে এক শতাংশ সারচার্জ।

সব মিলিয়ে মোবাইল ফোনে ১০০ টাকার কথা বলায় ৩৩ টাকা ২৫ পয়সা এবং ডাটা ব্যবহারে প্রায় ২২ টাকা কর দিতে হয় প্রায় ১৭ কোটি গ্রাহককে। ২০০ টাকা চার্জ রয়েছে সিমকার্ডে।

এ বিষয়ে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে যদি ঘরে বসেই সেবা দিতে হয়, তবে সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনতে হবে।

বাড়তি কর রয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ওপরও। ৪০-৪৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর দেয় মোবাইল ফোন সেবাদাতারা। এতে বিনিয়োগ কমছে বলে দাবি অপারেটরদের।

রবি’র সিইও মাহতাব উদ্দিন বলেন, এই শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশে আনতে হবে। তা না হলে বর্তমান পরিস্থিতে এই ধরনের মার্কেটে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য বিনিয়োগ করাটা কষ্টকর।

অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে দেশের প্রায় আড়াই হাজার ইউনিয়নে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দিয়েছে সরকার। তবে বাড়তি করের কারণে সেবায় ঘটছে বিঘ্ন।

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে একটা ফাইবার অপটিকস মডেম দরকার পড়ে। সেই ফাইবার অপটিকস মডেমে এখনও ৫৬-৫৭ শতাংশ ট্যাক্সসহ অন্যান্য শুল্ক আরোপ করে রাখা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১০টি প্রতিষ্ঠান চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে। মহামারিতে টিকে থাকতে দাবি উঠেছে কর অব্যাহতির সময় বাড়ানোর।

সিম্ফনির এমডি জাকারিয়া শহীদ বলেন, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি টিকিয়ে রাখতে হয় তবে কর অব্যাহতি অন্তত আরও তিন বছর বাড়াতে হবে।

দিনশেষে সব করের বোঝা চাপছে জনগণের কাঁধে। অন্তত মহামারির সময়ে তাই করছাড়ের আহ্বান বিশ্লেষকদের।

সংশ্লিষ্টদের মতে বর্তমানে জিডিপিতে টেলিকম খাতের অবদান প্রায় সাত শতাংশ।