‘১৯৮১ সালের ৩০ মে যারা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল, তারা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, বাংলাদেশের মানুষের শত্রু, বাংলাদেশের উত্থানের শত্রু। তারাই আবার ২০০৭ সালের ১/১১ তে সক্রিয় হয়েছে। এখন আবার তারা বাংলাদেশকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। তারা বাংলাদেশের আইডেন্টিটিকে ধ্বংস করতে চায়। এই দেশটাকে তারা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।’

গত শনিবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সারাদেশের ৮১টি সাংগঠনিক জেলার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ প্রবাসী শাখার নেতারাও এই ভার্চুয়াল আলোচনায় যুক্ত হন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকেরা, বাংলাদেশের শত্রুরা মনে করেছিল যে, বিএনপি শেষ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর এই বিএনপি থাকবে না। বিএনপির রাজনীতি তো হচ্ছে এই দেশের মানুষের বুকের ভেতরের রাজনীতি, মাটির রাজনীতি। এটা বিএনপি ধারণ করে এবং সব সময় বিএনপি সেই ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে এবং চতুর্দিকে আবার বিস্তার লাভ করেছে।

১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করেছিলাম তখন আমরা তরুণ ছিলাম, যুবক ছিলাম। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন একেবারেই যুবক ছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম অস্ত্র হাতে। আবারও ১৯৭৫ সালে জিয়ার ডাকেই আমরা রাষ্ট্রকে নির্মাণ করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর হতে চলল আমরা লড়াই করছি, সংগ্রাম করছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করে আছেন, অসুস্থ হয়ে আছেন। খালেদা জিয়াকে একটি মাত্র কারণে আটকে রেখেছে। সে কারণটি হলো- স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতন্ত্রের যে পতাকা, সেই পতাকাকে তিনি ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। সেজন্যেই দেশনেত্রীকে গ্রেপ্তার করে আটক করে রাখা হয়েছে। অসুস্থ হওয়ার পরও চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে না দেওয়া হয়নি। এখনই আমাদের লড়াইকে ঠিক জায়গায়, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। আসুন আমরা সবাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংগঠিত হই এবং আজকে এই দিনে এই শপথ গ্রহণ করি দেশমাতাকে মুক্ত করব, দেশকে মুক্ত করব এবং সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক উদার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব।’