ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হতাশ করে ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতল ভিয়ারিয়াল। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল। তবে সাডেন ডেথে রেড ডেভিলদের ১১-১০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভিয়ারিয়াল। এই জয়ে পরবর্তী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পেলো উনাই এমেরির দল।

প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় আসরের ফাইনালে উঠেই শিরোপার স্বাদ। ইয়েলো সাবমেরিনের উল্লাসধ্বনি পোল্যান্ড ছাড়িয়ে ততক্ষণে পৌঁছে গেছে স্পেনেও।

জয়ের পর ছাত্ররা শূন্যে ছুড়ল উনাই এমেরিকে। স্প্যানিশ কোচের তুলিতেই তো প্রায় একশ বছরের ইতিহাসের পাতা রঙিন হলো। নিজের ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ইউরোপা লিগের শিরোপা জিতলেন এমেরি।

মাঠ জুড়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি। হলুদের বিকিরণ। যার মাঝে ম্লান ম্যানচেস্টারের লাল রং। বাল্টিক কোস্টে ডেভিলদের রক্তক্ষরণ। সবচেয়ে বেশি বোধ হয় ডেভিড ডি হেইয়ার বুক থেকে।

শ্যুটআউটে একে একে গোল করে যাচ্ছিল দু’দলের সবাই। শুধু পারলেন না তিনিই। প্রতিপক্ষের ১১ শটের একটাও ঠেকাতে পারেননি। কিন্তু তার কিকটা ঠিকই আটকে দিয়েছে ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক রুলি।

ম্যারাথন ম্যাচে এর আগের ১২০ মিনিটের গল্প শেষের মতো রোমাঞ্চে ঠাসা নয়। ট্রফি খরা ঘোচাতে ইউনাইটেড নেমেছিলো পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে। কিন্তু পগবা-রাশফোর্ডরা ব্যর্থ নামের প্রতি সুবিচার করতে।

তারকাদের ছাপিয়ে আলো কাড়েন জেরার্ড মরেনো। ২৯ মিনিটে জায়ান্টদের জালে বল জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। ২০১০-১১ মৌসুমে গুইসেপ্পে রসির পর এই প্রথম সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে ৩০-এর বেশি গোল করলেন ভিয়ারিয়ালের কোনো ফুটবলার।

ম্যাচে ফেরার চেষ্টায় প্রথমার্ধে ব্যর্থ সোলশায়ারের দল, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও অগোছালো। তবে ৫৫ মিনিটে এডিনসন কাভানির সমতা ফেরানো গোলে স্বস্তি ফেরে ডেভিলদের ডাগআউটে। ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ৩৪ বা তার বেশি বয়সে কোনো ইংলিশ ক্লাবের হয়ে মেজর ইউরোপীয় ফাইনালে গোলের রেকর্ড গড়েন উরুগুইয়ান তারকা।

এই আনন্দ ভেস্তে গেছে ম্যাচ শেষে। হৃদকম্পন থামিয়ে দেয়া শ্যুটআউট পর্ব পেরোতে পারেনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলটার অশ্রুসিক্ত বিদায় দেখেছেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। দেখেছেন সদ্য সমাপ্ত ইপিএলের ২ নম্বর দলকে লা লিগার ৭ নম্বর দলের কাছে পরাস্ত হতে।