সব স্বপ্ন সব সময় বাড়িতে না গিয়ে কিছু স্বপ্ন দূরে থেকে পরিজনের সাথে উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত হয়। স্বপ্ন টানে পাড়ি দিতে মন চাইলেও দেওয়া হয় না পাড়ি। ইট কংক্রিট কিংবা ভাইরাসে আবৃত শহরেই পড়ে থাকতে হয় কাওকে। এবার সেরকম সংকট-ই হরহামেশা ঘটছে।

করোনার প্রকোপ ঠেকাতে সরকারের জারীকৃত লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধী মেনে চলার নির্দেশনায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার কারণে শহরমুখী জনগণ পড়েছেন নাকালে।দফায় দফায় লকডাউনের কবলে পড়ে ঢাকা শহরে এবার আটকা পড়েছেন এমন অনেকেই। অভ্যন্তরিন ফ্লাইট সচল,চলছে ব্যক্তিগত গাড়িতেও যাতায়ত। বাদবাকি বাস কিংবা ট্রেনের বৃহদাংশ যাত্রীই পড়ছেন বিপাকে। তবে, নৌ-পথে যাতায়তের উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় নৌপথের যাত্রী রা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন লঞ্চ,স্টিমার কিংবা ফেরী ঘাট সমূহে। জীবন বাজি রেখেও তীল পরিমাণ জায়গায় সর্বশেষ নিজের ঠাঁই টুকু করে নিচ্ছেন ঘর মুখো মানুষ। মৃত্যুঝুকি নিয়েও পাড়ি দিচ্ছেন নদীপথ। এমন ঘরমুখো প্রবণতার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন উৎসবে পরিবার কিংবা ঘরের মানুষের চাহিদার তাড়না কে। তাছাড়াও, ‘গণমাধ্যমে মানুষের বাড়ি যাওয়ার চিত্র দেখানো হচ্ছে রীতিমতো,যার ফলে যার বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না, তিনিও এই ধরনের প্রচারণা দেখে এক ধরনের উৎসাহ পান।

এদিকে আরেক পক্ষ রয়েছেন,যাদের ঈদ এবার স্বজন থেকে দূরে থেকে পালন করতে হচ্ছে। নদী পথে কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ী নিয়ে যাতায়ত করার সুযোগ পাচ্ছেন না। যারা প্রয়োজনের তাগীদের ঘরের বাহিরে ছিলেন, এখন যেতে পারছেন না ঘরে। সময় এবং সুযোগ কোনোনটাই তাদের ঝুলিতে নেই।

পড়ালেখার পাশাপাশি চাকরী করেন রুবেল হাওলাদার। তার ঈদে বাড়ি ফিরতে না পারার কথা উল্লেখ করে বলেন- ‘দুঃখের কথা কি আর বলবো।
আমি একটা মেস এ থাকি।
মেস এর সবাই যে কোন ভাবে বাড়ি চলে যায়।
আমি একটু অসুস্থ তাই কোন ভাবেই বাড়ি যাওয়া যাবে না, এদিকে আবার লকডাউনের কারণে অফিস থেকে বাড়িতে যেতে না করছে। এদিকে এক খালা রান্না করে দিতো সে আবার ঈদের ছুটি চায় বাড়িতে যাবে। আমি পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারবো না তাই বলে কি সে ও পারবে না তাকে ও যেতে বলছি এখন আমার যা হয়। আল্লাহ ভরসা।’

ফারজানা মুক্তা স্বামীর সাথে থাকেন ঢাকায়। সাথে পড়ালেখা-ও করছেন। লকডাউনের কবলে এবার মা-বাবা আর স্বজনদের কাছে যেতে পারেন নি। আক্ষেপের সুরে তিনিও জানাচ্ছেন, ‘আমাদের দুজনের ই বাবা মা ফোন করছেন বারংবার। এদিকে ছোট ভাই বোনদের মন খারাপ। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমাদের এখানে থাকতে হচ্ছে, কিছুই করার নেই। পরিবার থেকে এই প্রথম দূরে থেকে ঈদ করছি।’

হামিদুল ইসলাম ফরহাদ নামের আরেকজন বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে এমনিতেই যেতে সময় লাগে ৮ ঘন্টা, লাগে আর এখন তো অনিশ্চইতার মধ্যে ফিরতে হবে। আর কিছু দিন আগে আমার একটা আত্নীয় মারা গেছেন সেখানে গিয়ে মা আটকা পরে আছে । বাস না চললে আসতে পারতেছে না । কম-বেশি সবারই আর্থিক সমস্যা থাকে। একটা ছোট চাকরি করি সেখান থেকে ৩ দিন ছুটি দিয়েছে, এর বেশি ছুটি কাটালে চাকরি থাকবে না । চাকরি হারানোর ভয়, আর পরিবারের এক এক জন এক এক জায়গায় থাকার কারণে আর যাওয়া হয়নি। বুকে কষ্ট চাপা দিয়ে এই শহর টা আটকে ধরে রুম বন্ধ করে শুয়ে আছি।’

 

এদিকে নৌ-পথে কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। নেই কোনো জানমালের নিরাপত্তা। প্রচন্ড গরম আর পানিশূণ্যতায় ভূগছেন অসংখ্য যাত্রী। গতকাল(১২ই মে) মাওয়া থেকে ফেরী পারাপারের সময় পানি-শূণ্যতায় গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন অসংখ্য যাত্রী, কেও বা নিহত হয়ে পড়ে রয়েছেন মেঝেতে। শীকড়ের টানে ছুটে চলতে যেয়েও বারংবার উষ্ঠা খেয়ে সে দূরেই রয়েছে প্রিয়জন থেকে।