শরিয়তপুরে গ্রামে গঞ্জে দেখা যায়, ছোট-বড় প্রায় সকল রাস্তাই চাষিদের দখলে। অধিকাংশ রাস্তার উপর ধান মাড়াই, ভুট্টা মাড়াই, পাট ও পাটকাঠি শুকানো, ধানের খড় শুকানো সহ খড় ও পাটকাঠির গাদা তৈরি করা হচ্ছে। আর ধান, ভুট্টা ও পাটে একাকার হয়ে আছে রাস্তার দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনার এবং মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

যেমন: রাস্তায় গাছ বা ফসল বিছিয়ে রাখার ফলে গাড়ির চাকা এলোমেলোভাবে চলার পাশাপাশি ধুলাবালি ও খড়-কুটা ওড়ার ফলে সাধারণ মানুষের শ্বাসকষ্ট ও নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পড়ে থাকা অবশিষ্টাংশ পচে রাস্তাঘাট পিচ্ছিল, দুর্গন্ধ ও নোংরা হয়ে যায়-যা পরিবেশের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। কেউ তাদেরকে নিষেধ করলে তাকে বরং উল্টা তেড়ে মারতে আসে! যা খুবই দু:খ জনক ও অনভিপ্রেত।

কিন্তু রাস্তা তো এসব কাজের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় নি এবং তা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়। বরং রাস্তা হল সর্বসাধারণের চলাচলের স্থান। সুতরাং তাতে কারো এমন কোন কাজ করার অধিকার নেই যাতে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় বা এতে পথিক কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাস্তায় এগুলো মাড়াই করা, শুকাতে দেয়া বা স্তূপ করে রেখে পথিককে কষ্ট দেয়া এবং চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির শামিল।

পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু দেখা গেছে সকলের সামনে হউক পুলিশ, হউক ইউএনও,হউক এসিল্যান্ড, হউক জনপ্রতিনিধি, হউক সচেতন মহল, সকলের নাকের ডগায় একটু চোখ ফিরাইলেই দেখা যাবে সুন্দর সুন্দর কাঁচা পাকা সড়কগুলোতে কিছু সংখ্যক এলাকার স্বার্থান্বেষীমহল সড়কের উপর ধান মাড়াই করে খড় শুকিয়ে সড়কগুলো নষ্ট করে ফেলছে। কে শুনছে কার কথা, যার যে ভাবে মন চায় রাস্তায় খড় শুকায়, গোবর শুকায়, গাছের টুকরা ফেলে রাখা হয়, কংক্রিট, বালি, মাটি রাখা হয়, এখন বর্ষা মৌসুম ঘন ঘন বৃষ্টি হয়।

এখন পাকা সড়কের উপর যদি ঐ সমস্ত জিনিস দ্বারা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে তাহলে সড়কের পিচ ঢালাই এর টেম্পার নষ্ট হয়ে অচিরেই কাঁচা পাকা সড়ক বিলীন হয়ে যাবে।

এখনই প্রয়োজন এ বিষয়ের উপর কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া।