সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় লাগা আগুন ২১ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সোমবার (৩ মে) সন্ধ্যা ৭টায় দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে অভিযান বন্ধ করে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নেভাতে মঙ্গলবার (০৪ মে) সকালে আবারও অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগ।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, লোকালয় থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বনের মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফলে আগুন নেভানোর জন্য আমাদের বেগ পেতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে গাছের পাতার স্তূপ থাকায় আগুন এক জায়গায় নেই। সমতল ভূমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে পানি দেওয়ার জন্য ৪ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়েছে। রাত হওয়ার কারণে অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোর থেকে আমাদের তিনটি ইউনিট আবারও কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, আজকে সম্পূর্ণভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

এদিকে আগুন লাগার কারণ জানতে সোমবার (০৩ মে) সন্ধ্যায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন বিভাগ। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখেলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীনকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- শরণখেলা স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ও ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনের মধ্যে আগুন না নিভলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে কিছু লতাপাতা পুড়েছে। বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। রাতের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে পুনরায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়েছে।

/এমআই