অধ্যাপক আব্দুল হালিম,ফেনী জয়নাল হাজারী কলেজের অধ্যক্ষ। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানেও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার ই অক্লান্ত শ্রমে এই এমপিও ভূক্ত কলেজ টি জেলার সিমানা ছাড়িয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডেও উল্লেখযোগ্য কলেজ হিসেবে পরিগণিত। এমপিও ভুক্ত এই কলেজটি বেশ কয়েকবার পাশের হারের দিক দিয়ে জেলায় সর্বোচ্ছ স্থান অধিকার করার রেকর্ড করে। অধ্যাপক আব্দুল হালিমের সাথে কলেজের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছে তারই ছাত্র এবং জয়নাল হাজারী কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ৭১ বিডি নিউজের প্রতিবেদক- মোহাম্মদ রায়হান।

প্রতিবেদকঃ আমরা জানি, এই কলেজের এত দূর আসার পেছনে আপনার অবদান অপরসীম। এমনকি আপনার শেষ বয়স অবদী এখানেই কাজ করে চলেছেন। এখন, আপনার চাকরি জীবন এর মেয়াদকাল কি আরো বাড়িয়ে নিবেন? এই কলেজ কে যে অবস্থানে নিয়ে আসা আপনার স্বপ্ন ছিলো,সেই স্বপ্ন কি পূর্ণতা পেয়েছে? রিটায়ার্ডমেন্ট এর পূর্বে আর কলেজের জন্য কোন কাজ টি করে যাবেন?

আব্দুল হালিমঃ আলহামদুলিল্লাহ, এই কলেজ কে নিয়ে আমার সব স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি মাত্র ৮০ জন ছাত্র নিয়ে একটা টিনের ঘরে কলেজ শুরু করি। আমার স্বপ্ন ছিলো কলেজে অনার্স চালু করবো, নিজের অর্থায়ণে ভবন তৈরী করবো। সব স্বপ্নই আমার পূরণ হয়েছে। আমি আগামী বছর রিটার্ণ করবো। এর আগে কলেজের সামনে একটা কালভার্ট তৈরী করবো। একটা শহীদ মিনার হবে। আর সর্বশেষ কলেজে মাস্টার্স কোর্স চালু করার ইচ্ছে আছে।

প্রতিবেদকঃ একটা এমপিও ভূক্ত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যত সন্মানী পাওয়ার কথা ঠিক ততই পান। এর বাহিরে আপনার কোনো স্বার্থ নেই। এমন কি জানা গেছে, আপনাকে আরো অনেক মোটাঅঙ্কের বেতন দিয়েও কিছু বেসরকারী কলেজে অধ্যাপনা করার সুযোগ দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু আপনি কোনো সুযোগ ই গ্রহন করেন নি।

আব্দুল হালিমঃ হ্যা।আমি কেবল কলেজের স্বার্থে,ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে এই কলেজ ছাড়িনি। কারন আমি জানি আমি চলে গেলে এই কলেজ চালানো অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে।

প্রতিবেদকঃ জয়নাল হাজারী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ভর্তি বাতিল করে নিজ জেলার ভেতরে অন্য কলেজ গুলো তে যেতে দেওয়া হয়না কেন? জেলার বাহিরে যেতেও কিছুটা ঝামেলা পোহাতে হয়।

আব্দুল হালিমঃ ট্রান্সফার দেওয়া হয়না দূর্নীতি প্রতিরোধকল্পে।বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভর্তি বাতিলের জন্য তিন পক্ষের ভেতরে টাকা আদান প্রদান করতে হয়। স্বভাবত বছরের প্রথম দিকে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় কলেজ গুলোর নির্দিষ্ট পরিমান সিট বুক হওয়ার পর। এরপর যারাই ভর্তি হবে,প্রচলিত কোনো নিয়মে ভর্তি হওয়ার সুযোগ নেই। প্রচলিত নিয়মের বাইরে যেতে হয় বলেই বাড়তি প্রচুর টাকা খরচ হয়। এক পক্ষ হলো পূর্বের কলেজ, মধ্যপন্হী একদল, আর পরে যেখানে ভর্তি হতে চায় সেই কলেজ। এই যে টাকা পয়সার আদান প্রদান,অর্থের আদানপ্রদান, বৈধ নয় এসব অর্থ। কিন্তু আমি নিজেই এসব অবৈধ টাকা খেতে পারবো না।

প্রতিবেদকঃ এমন অনেক শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ বলেন,বোর্ডের কর্মকর্তা রা ও জয়নাল হাজারী কলেজের অধ্যক্ষের প্রতি বিরুপ এবং বিরক্ত।

আব্দুল হালিমঃ বোর্ড যদি আমার প্রতি এতই বিরুপ হয় তাহলে আমার আজ পর্যন্ত এই কলেজ চালানো সম্ভব হতো না। কলেজ আজকের অবস্থানে আসতো না।সম্প্রতি কুমিল্লা বোর্ডে শিক্ষার মান উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনারে জেলার সর্বোচ্ছ পাশের হার বিশিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে আমি বক্তৃতা দেই। আর বোর্ডে আমার দূর্নাম থাকলে আমাকে ওখানে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগ দিতো না।

প্রতিবেদকঃ ফেইল করলে পুনরায় পরীক্ষা দিতে না দেওয়া দেখা গেছে সবচেয়ে বেশী জনকে অভিযোগ করতে শুনা গেছে । আবার এমন অভিযোগ ও শুনা গেছে যে, ফেইল করা কাওকেই পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়না,আর কখনও দেখা যায়, স্যারের খুব কাছের কারো সুপারিশে হয়তো কখনো কোনো ছাত্রের ফেইলের ব্যাপারটা কে অতিক্রম করেও তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?

আব্দুল হালিমঃ যে কাজ করে তার সমালোচনা অবশ্যই থাকে। আর গুণী রা সেসব সমালোচনার পিচু হটে না।চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে না দেওয়া প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট কেই বারংবার সুযোগ প্রদান করা হয়। বাদ পড়া সকলেই একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য রা। এরপর এদের সুযোগ প্রদান করা হয়,দ্বাদশ শ্রেনীতে পড়ার। ওখানেও অর্ধবার্ষিক, প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা গুলো তে তারা অকৃতকার্য হলেই তাদের চূড়ান্ত ভাবে পরীক্ষা দেওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়। এবং তাদের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয় না। তাছাড়া, সুপারিশ এর কথা টা ভিত্তিহীন। এমপি মহোদয় এই কলেজের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান।তার থেকে বড় মাফের সুপারিশকারী আমার কাছে কেও ই নন। আর উনি কখনোই কারো জন্য সুপারিশ করেন না। আমার নিজ ভাগীনা এই কলেজের স্টুডেন্ট ছিলো। এমনকি তাকেই একটা বছর ড্রপ দিতে হয়েছে।

প্রতিবেদকঃ জেলায় আরো অনেক কলেজ ই রয়েছে। বিশেষ করে পাশেই আছে ফেনী সরকারী কলেজ। দু’কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে তুলনা করলে দেখা যায়,জয়নাল হাজারী কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা এখানকার অনেক নিয়ম কানুন কে ‘ধরাবাধা’ বলে মনে করছেন। এমনকি অনেক আইন ও রয়েছে, যেগুলো অনুচিত বলে মনে করে সাধারণ শিক্ষার্থী। জেলার বাকি কলেজ গুলোর থেকে এমন আলাদা হওয়ার কারণ কি?

আব্দুল হালিমঃ জেলায় অবস্থিত বাকি সরকারি কলেজ গুলোর সাথে তুলনা অযৌক্তিক । একই সাথে তিনি এমপিও ভূক্ত কলেজ হিসেবে আমাদের নানা দায়বদ্ধতা রয়েছে।

প্রতিবেদকঃ আপনার পিছনে যারা নানা কটুক্তি করে কিংবা অনেকেই হয়তো আপনার পরিপন্থী। আপনি এসব কিভাবে প্রতিহত করেন?

আবদুল হালিমঃ আমি এসব কে মূল্যয়ন করি না। এসব নিয়ে ভাবি না। আমি বিশ্বাস করি, এসব নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে আগানো যায় না। মনে রাখবে,এই সমাজে ভালো লোকের সংখ্যা খুব ই কম।ভালো লোক গুলো খারাপ লোকের গুলোর কারণেই কোনঠাসা হয়ে পড়ছে দিন দিন।
বাস্তবিকপক্ষে,মানুষ ফেরেস্তা নয়। ভূল হবেই। আমি আমার জায়গা থেকে আমার কলেজের ব্যাপারে কঠোর। এই কঠোরতা দেখাতে গিয়ে কারো ক্ষতি হলে সেটা আমার ইচ্ছাকৃত নয়।

প্রতিবেদকঃ ধন্যবাদ আপনাকে।