শপিং মল ও দোকানপাট খোলার পরই কেনাকাটা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। কেউ ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন মলগুলোতে। কেউ বা যাচ্ছেন অটোরিক্সা বা রিকশায়। এদিকে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চলাফেরার কথা থাকলেও তা এ নিয়ে এখন আর বালাই নাই। গণহারে সবাই বেরিয়ে পড়ায় বিভিন্ন চেকপোস্টেও দেখা গেছে ঢিলেঢালা ভাব।

রাজধানীর মিরপুরে বেশ কয়েকটি শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ আসন্ন, তাই কেনাকাটায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে নানা বয়সী নারী-পুরুষ। সাজসজ্জা ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে গতানুগতিক উপচেপড়া ভিড়। এ ছাড়া, এক শপিং মল থেকে অন্য শপিং মলেও অবাধে আসা-যাওয়া করছেন ক্রেতারা।

কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তায় কোনও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়নি। শুরুর দিকে তল্লাশি থাকলেও এখন অনেকটাই ঢিলেঢালা। মুভমেন্ট পাস আছে কিনা জানতে চাইলে অনেকেই বললেন, এখন তো শপিং মল খুলে দিয়েছে সরকার। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মার্কেটে এসেছি। মুভমেন্ট পাসের প্রয়োজন নেই।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, আগের চেয়ে অনেকটাই ঢিলেঢালা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি। কেউ কেউ জনগণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জানতে চাইলেও কাউকে ফেরত পাঠাচ্ছেন না। এ সময় ট্রাফিক বিভাগের পল্লবী জোনের পুলিশ সার্জেন্ট বিকাসুজ্জামান রনি বলেন, শপিং মলগুলো খোলা থাকায় জনসাধারণের চলাচল বেড়েছে। গাড়ির চাপও বেড়েছে। আমরা যতোটা সম্ভব জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ ছাড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ সদর দফতর বলছে, সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে পুলিশদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুভমেন্ট পাস হয়েছে কিনা সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা রয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতরে ব্যবসায়ী ও মালিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, মার্কেটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং মাস্ক পরে কেনাকাটা করতে হবে। আর গতকাল (২৮ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম শপিং মল ও মার্কেটের মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনা কথা বলেছেন।

মার্কেট মালিক সমিতির নেতারা পুলিশের উপস্থিতিতে মার্কেটে ঘুরে ঘুরে মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারদের ব্যবস্থা নিতেও বলেন তিনি।

মার্কেট খোলার পর মুভমেন্ট পাসের চাহিদা বেড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সদরদফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি সোহেল রানা বলেন, আমরা জনসাধারণকে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চলাফেরা করার জন্য বলছি। যারা আবেদন করছেন তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে পাস দিচ্ছি।

সাড়ে ১৭ লাখ মুভমেন্ট পাস

১৩ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মুভমেন্ট পাস-এর ওয়েবসাইটে হিট পড়েছে ২১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৯। এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১১ লাখ ৯৩ হাজার ১৯৭ জন। পাস ইস্যু হয়েছে ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৬টি। শুরুর দিকে মুভমেন্ট পাস নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন কমে এসেছে।