রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মির্জা রবিউল হায়দার মারা গেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

সোমবার রাতে ১০টার দিকে রাজধানীর মগবাজার রাশমনো হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশেষ ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক রবিউল হায়দারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আশরাফ হোসেন ও কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারসহ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিবার।

৭ম বিসিএস (১৯৮৫) কর্মকর্তা রবিউল হায়দার সর্বশেষ সরকারি তিতুমীর কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। ২০১৮ সালে তিতুমীর কলেজ থেকে হায়দার পিআরএল এ যান।

তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন। মির্জা রবিউল হায়দার একজন গুনী লেখক‌ও ছিলেন। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাঁর একাধিক প্রকাশিত বই রয়েছে।

পরিবার জানায়, রবিউল হায়দার গত চার-পাচঁ দিন হালকা জ্বর এবং ঠান্ডায় ভুগছিলেন। কিন্তু শনিবার হঠাৎ তিনি আজিমপুরে বাসায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর অক্সিজেনের মাত্রা নেমে যায়। ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করা হলেও কোথাও ভর্তি করাতে না পেরে তাঁকে প্রথমে মাতুয়াইলের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়।

রবিউল হায়দারের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তিতুমীর কলেজের ফিনান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালাহ উদ্দিন ফেসবুকে লিখেন, ‘গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সরকারি তিতুমীর কলেজ এর ব্যবস্থাপনা বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান জনাব সিরাজুম মুনিরা ম্যাডামের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অফিসার্স ক্লাবে এসেছিলেন তিনি। এক টেবিলে খেয়েছি আমরা। দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছেন। তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আশরাফ হোসেন স্যার, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর তালাত সুলতানা ম্যাডাম, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ও বর্তমান উপসচিব জনাব মোঃ আব্দুল হালিম স্যারসহ অনেক সহকর্মীর সাথে দেখা করলেন, কথা বললেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিণীও উপস্থিত ছিলেন। স্যারের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল ১০/০৪/২১ শনিবার। একই সাথে কিডনী ও শ্বাসযন্ত্র ক্ষতিগ্ৰস্থ হয়। সোমবার রাতে তাঁর রক্তচাপ নেমে আসে। আর ফিরে আসেননি’।

অধ্যাপক রবিউল হায়দারের মরদেহ চাঁদপুরে নিজ গ্রামে দাফন করা হবে। তার স্ত্রী ও দুটি মেয়ে আছেন। উভয় মেয়েই এখন অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছেন।

সময় জার্নাল/এমআই