সোনারগাঁও রিসোর্টকাণ্ডের ৯ দিনের মাথায় সন্ধান মিলল হেফাজত নেতা মামুনুল হকের তৃতীয় স্ত্রীর। তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি। বিয়ের বিষয়টি মামুনুল স্বীকার করেছেন ওই নারীর ভাইয়ের কাছে। তারপর থেকেই নিখোঁজ জান্নাতুল ফেরদৌস। এই অবস্থায় বোনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ওই নারীর ভাই।

রোববার (১১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ওই নারীর ভাই তার বোনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সাধারণ ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেছেন- ৭ এপ্রিল বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপির সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। বোন জানান, মোহাম্মদপুরে দিলরুবা আপার বাসায় অবস্থান করছেন তিনি। ১০ এপ্রিল মাওলানা মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় ডেকে জানান, আমার বোন জান্নাতুল ফেরদৌস লিপির সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। একটি চুক্তিনামাও দেখায়। অদ্যাবধি আমার বোনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি। আমার বোন বর্তমানে কোথায়, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমার বোনকে নিরাপত্তা প্রদান ও আইনানুগ অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইনগত সহায়তা কামনা করছি।

এই যুবকের নাম শাহজাহান সাজু। জিডির বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস পেশায় একজন মাদ্রাসাশিক্ষক। শিক্ষকতা করেন কেরানীঞ্জের একটি মহিলা মাদ্রাসায়। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই বাসাতেই মাওলানা মামুনুলের যাতায়াত ছিল। মাদ্রাসাটির প্রধান উপদেষ্টাও মামুনুল হক।

এই নারীর গাজীপুরের কাপাসিয়ার বাড়িতেও যাতায়াত ছিল মামুনুলের। পরিবারের সবার সঙ্গে ছিল তার ভালো সম্পর্ক। বেসরকারি এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পরিচয় হয় মামুনুল হকের। প্রথম স্বামীর সঙ্গে তালাক হওয়ার পর ২০২০ সালে মামুনুল তাকে বিয়ে করে বলে জানা গেছে।

এদিকে মামুনুলের কথিত স্ত্রী জান্নাত আরার ঝর্ণার বড় ছেলে আবদুর রহমানের সঙ্গেও কথা হয় সময় সংবাদের। নিজের এবং মায়ের জীবন হুমকির সম্মুখীন দাবি করে মায়ের সন্ধান চান।

নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে নারীসহ স্থানীয়দের কাছে আটকের পর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন মামুনুল। এবার সন্ধান পাওয়া গেল তৃতীয় বউয়ের।