বর্বর এবং নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞ, সিনেমার গল্পকে হার মানানো, ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি’র শরীরে অগ্নি সংযোগের দুই বছর আজ।

২০১৯ সালের ৬ই এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল সিনিয়র(ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলার নেতৃত্বে একই মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি’র গায়ে অগ্নি সংযোগ করা হয়।

নুসরাত জাহান রাফি। সোনাগাজী ফাজিল সিনিয়র (ডিগ্রী) মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। আলিম পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম নিষ্ঠুরতার স্বীকার হতে হয়েছে নুসরাত কে । পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে নিয়ে গিয়ে চারজন বোরকা পড়া সহপাঠি কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আলিম পরীক্ষার্থী এই নুসরাতের গায়ে। এতে তার শরীরের ৭০-৮০ ভাগই পুড়ে যায়। অল্পকয়দিন পরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে মারা যায় নুসরাত।

জানা যায়, নুসরাত বার বার অধ্যক্ষের সমীপে যৌন হয়রানির স্বীকার হয়। অতীষ্ঠ হয়ে থানায় মামলা করে নুসরাতের পরিবার। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বল প্রয়োগ করতে থাকে সিরাজুদ্দৌলা। নুসরাত এবং তার পরিবার মামলা তুলে না নেওয়ায় তার জের ধরে এমন হত্যাকান্ড চালায় সিরাজুদ্দৌলা।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তারের গনমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিচারিক আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি। শুনেছি উচ্চ আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসামীদের রায় দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, আজ দুই বছর আমি আমার মেয়ের কণ্ঠে মা ডাকটি শুনতে পাই না। রাতে ঘুম হয় না। কারণ আমার মেয়ের হাত-পা বেঁধে যখন তারা আগুন লাগিয়েছিল, তখন আমার মেয়ে কি করেছিল?

উল্লেখ্য যে, এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন।মামলা মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্ততর্ক গ্রহণ করা হয়। ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানার দণ্ডে দণ্ডিত করেন।