ঢাকা বুধবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৪

Popular bangla online news portal

Janata Bank
Rupalibank

গৃহকর্মীদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি ও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির দাবি


নিউজ ডেস্ক
৯:৪৬ - মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪
গৃহকর্মীদের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি ও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন গৃহকর্মীরা।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ, দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সুনীতি প্রকল্প আয়োজিত ‘গৃহকর্মী জাতীয় সম্মেলন ২০২৪’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই দাবি জানান তারা। 

‘সময় এখন গৃহকর্ম এবং গৃহকর্মীর’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫ শতাধিক গৃহকর্মীর অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, সরকার নানানভাবে দেশের উন্নয়ন করছে। গৃহকর্মীদের জন্যেও এই সরকার সংবেদনশীল। তারই প্রমাণ ২০১৫ সালে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ প্রণয়ন করা। আমি মনে করি এ যাবৎকাল পর্যন্ত গৃহকর্মীরা নিগৃহীত শ্রেণির। তাদের ছুটিছাটা নেই, যেখানে রান্না করেন সেখানেই ঘুমান, তারা নির্যাতিত হন, এমনকি তাদের হত্যা পর্যন্ত করা হয়। এই যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহকর্মীদের মানবেতর জীবন থেকে সুস্থ জীবনে নিয়ে আসা, সেটিও একটা মানবিক সংগ্রাম। গৃহকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তির দাবির সঙ্গে আমি একমত। গৃহকর্মী নীতি ঠিকভাবে মনিটরিং হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমার দাবি এবং সুপারিশ, সংসদ অধিবেশনে এই নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে বর্তমান শ্রমমন্ত্রী সংসদে এ নিয়ে কথা বলবেন। শুধু তাই নয়, দেশে প্রায় ৪০ লাখ গৃহকর্মী রয়েছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে তাদের জন্য সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি-না দেখা যেতে পারে। গৃহকর্মী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সন্তানদের মাধ্যমিক পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান করা যায় কি-না ভাবতে হবে।

সাবেক সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, গৃহকর্মীদের কোনো ছুটি নেই, কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, নেই কোনো নিয়োগপত্র, স্বাস্থ্যসুবিধা এবং ন্যূনতম মজুরি। গৃহকর্মীরা যৌন হয়রানিসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। তাদের সামাজিক মর্যাদা নেই এবং পেশা হিসেবে কাজের কোনো স্বীকৃতি নেই।

সম্মেলনে ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিচালিত জরিপের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ২০২২ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) ১৫ জন নিহত এবং ৩৩ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১১-২২ সালে নিহতের সংখ্যা ৩৪১ এবং আহত ৩২১ জন।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশিষ দামলে, ডিএসকে এর নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ।