ঢাকা শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

Popular bangla online news portal

শীতে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ


নিউজ ডেস্ক
৪:০৯ - শনিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২২
শীতে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কয়েকদিন ধরেই বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। শীতের হিমেল হাওয়ায় বাড়ছে রোগটি। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ২৫-৩০ জন রোগী। এতে পর্যাপ্ত বেড না থাকায় তীব্র শীতেও মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, বেডের অভাবে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা।

সরেজমিনে শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি চট-কম্বল বিছিয়ে মাটিতে শুয়ে আছে শিশু ও তার স্বজনরা। সেখানেই চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সজিব নামে এক শিশুর মা বলেন, গত দুদিন থেকে ছেলের পাতলা পায়খানা। গত রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসা ভালো, কিন্তু শীতের দিনে বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছি। শীতের দিন না হলে এত কষ্ট হতো না।

আব্দুস সালাম নামে আরও এক শিশুর বাবা বলেন, সকালেই ডায়রিয়া আক্রান্ত ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। কিন্তু বেড না থাকায় মেঝেতে কম্বল বিছিয়ে শুয়ে আছে আমার ছেলে ও স্ত্রী। চেষ্টা করেও শীতের তীব্রতা ও ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা পাচ্ছি না।

শহরের শিবতলা এলাকার ইয়াসমিনের ছেলে ভর্তি আছে হাসপাতালে। তিনি বলেন, সকালেই হাসপাতালে ভর্তি করেছি ছেলেকে। কিন্তু বেড নাই। বারান্দাতেও কম্বল বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। এতে শিশুদের ডায়রিয়া ভালো করতে এসে ঠান্ডা লেগে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য বেড নেই। কিন্তু এবছর বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। আর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে যে সোফা ও বেড রয়েছে, তা মোট ২৪ জনকে দেওয়া সম্ভব। তাই রোগীদের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফরহাদ আলী সুইট বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার শীতে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা যাদের বয়স মাত্র ৬ মাস থেকে এক বছর। তবে আমাদের চিকিৎসা নিয়ে সব রোগীই সুস্থ হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে ৮১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। গতকাল ভর্তি ছিল ৬১ জন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাহমুদুর রশিদ বলেন, শীতে প্রতিবছর শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগের প্রকোপ বাড়ে। এবারও বেড়েছে। তবে এবার আক্রান্ত হচ্ছে বেশি শিশুরা। কোনোরকম খাবার স্যালাইন, ওষুধের কোনো কমতি নেই। সবাই চিকিৎসা পাচ্ছে।