ঢাকা শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

Popular bangla online news portal

ফসলের মাঠে বেড়ে উঠছে ইটভাটা


নিউজ ডেস্ক
৭:০২ - সোমবার, নভেম্বর ২৮, ২০২২
ফসলের মাঠে বেড়ে উঠছে ইটভাটা

কুষ্টিয়ায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে ইটভাটা। অধিকাংশ ভাটা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ও ফসলি জমিতে স্থাপন করা হয়েছে। এসব ভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হয় কাঠ। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পরিবেশ ভারসাম্যে বিরূপ প্রভাব এনে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চালানো হচ্ছে ইটের ভাটা। ইটভাটা থেকে আড়াইশ কোটি টাকার বার্ষিক বাণিজ্য হয়। প্রায় ২৮টি ইটভাটা নষ্ট করেছে অন্তত ২০টি বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। 

নামমাত্র দু-একটি কয়লার ভাটা থাকলেও বাকিসব চলে গাছ পুড়িয়ে, কাটা হয় ফসলী মাটি। কোনো কোনো উদ্যোক্তা কয়লার ভাটা বন্ধ রেখে লাগামহীন ভাবে গাছ পুড়িয়ে চালাচ্ছে। ইটের ভাটাতেই বসানো হয়েছে কাঠ কাটার কল।

এসব ইটভাটায় স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ ও মানুষ। আইন অমান্য করে দিনের পর দিন ইটভাটার সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলার স্বরুপপুর-বাজুডাঙ্গা এলাকায় ৩টি ইটের ভাটায় সরেজমিনে কাঠ পুড়তে দেখা যায়। মজুদ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ। এসব ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে ফসলের ক্ষেতেই। এখানকার নুরী ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী বজলুর রহমান ওরফে কটা বলেন, আমার কোনো কাগজপত্র নাই। এভাবেই চালিয়ে যাচ্ছি, ব্যবসা চালাতে কোনো সমস্যা হয় না।

উপজেলার শাদীপুর ফসলের মাঠও এখন ইটভাটার দখলে। এই এলাকায় পাঁচটি ইটের ভাটা। যারমধ্যে একটিতে কয়লার জ্বালানী আয়োজন থাকলেও তা অব্যবহৃত। ওই ভাটাতেই বসানো হয়েছে কাঠ ফাঁড়ার মেশিন। এখানে কমবেশি সব ভাটাতেই স'মিল বসিয়ে গাছ কেটে জ্বালানীর চাহিদা মেটানো হয়। আল সালেহ লাইফ লাইন ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মামুন বলেন, আমার দুটি ভাটা একটি কয়লায় চলে আরেকটি খড়িতে। 

বিশ্বাস ব্রিকসের পরিচালক আনোয়ারুল জানান, মালিকদের ঐক্য নাই, যে যার মতো ছন্নছাড়া হয়ে ব্যবসা করছে। ইতিবাচকভাবে পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো অভিভাবক নেই, যে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

দৌলতপুরের চক দৌলতপুর এলাকার রমজান আলীর নুরু ব্রিক্স ছাড়াও দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় চলছে চারটি ইটের ভাটা।

ডাংমড়কা এলাকার তিনটি ফসলের মাঠে ইটভাটা চারটি। ইট পোড়াতে সবাই নির্ভরশীল ফসলের ক্ষেতের মাটি এবং কাটা গাছের ওপর। এই এলাকায় নতুন ভাটা মালিক মোফাজ্জল হকও এগিয়েছে একই পথে, প্রথম লটেই গাছ পুড়িয়ে শুরু তাদের। ইতোমধ্যেই মজুদ করা হয়েছে কাটা গাছ।

দৌলতপুর থানা থেকে রিফায়েতপুরের পথে উদ্যোক্তা ওলি এবং নজরুলের দুটি ভাটা। নজরুলের ভাটায় কয়লার আয়োজন থাকলেও ওলির ভাটা খড়ি নির্ভর। গলাকাটি এলাকায় তিনটি, বড়গাংদিয়ায় একটি, আদাবাড়িয়ায় একটি,খলিশাকুন্ডীতে একটি এবং জয়রামপুর-কল্যানপুর এলাকায় তিনটি ইটভাটা চলছে ফসলের ক্ষেতে।

চলতি মাসেও দাড়ের পাড়া, গোবর গাড়া, নারায়নপুর, বড়গাংদিয়া এলাকায় ফসলের ক্ষেতের মাটি কাটা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০ বিঘা জমিতে। 

সংগৃহীত তথ্য মতে, কুষ্টিয়ার এই দৌলতপুর উপজেলায় ইট পোড়ানোর একেক মৌসুমেই কাটা গাছের প্রয়োজন হয় ১ লাখ টন, যার চলতি বাজার মূল্য অন্তত ৪০ কোটি টাকা।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলমা বলেন, এসব ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে চলছে, আমি দায়িত্বে আসার আগেই। তখন কিভাবে হয়েছে বলতে পারব না। সমস্যাটি সমাধানে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া এজমাসহ ফুসফুসের নানা জটিলতা তৈরি করে। দৌলতপুরে এ ধরণের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, দৌলতপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া ইটভাটা একটি, বাকি ২৮টি অবৈধ। সবাইকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।