ঢাকা শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

Popular bangla online news portal

সমুদ্রে নেমেছেন উপকূলের জেলেরা


নিউজ ডেস্ক
৯:১০ - শনিবার, জুলাই ২৩, ২০২২
সমুদ্রে নেমেছেন উপকূলের জেলেরা

সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ (২৩ জুলাই)। তবে এর আগেই রুপালি ইলিশের সন্ধানে সমুদ্রে নেমেছেন উপকূলের জেলেরা। এই সময় দেশের অন্যতম মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর খাপড়াভাঙ্গা নদীর ঘাটে সহস্রাধিক মাছ ধরার ট্রলার থাকার কথা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি ট্রলার ঘাটে নোঙর করা আছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সমুদ্রে নেমেছে শত শত ট্রলার।   

জানা গেছে, এ বছর নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞাকালে অধিকাংশ জেলেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। সমুদ্রে ৬৫ দিনের অবরোধ শুধুমাত্র কাগজেই সীমাবদ্ধ ছিল। অবরোধকালে কুয়াকাটা, আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, রাঙ্গাবালী, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সম্রাটসহ উপকূলীয় এলাকার মৎস্য আড়তগুলো ছিল মাছে সরগরম। জেলেদের আহরণকৃত মাছ রীতিমতো খোলা বাজারে বিক্রি, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাতকরণ সবই চলেছে হাঁকডাকের মধ্য দিয়ে। 

মৎস্য অফিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, থানা পুলিশ ও নৌবাহিনী রহস্যজনক কারণে নিরব ছিলেন এই সময়ে। মাঝে মধ্যে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড ভিযান চালিয়ে গত ৬৫ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক জেলেকে আটক করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়। বরফ উৎপাদনেও ব্যস্ত সময় পার করেছেন একাধিক বরফ কল মালিক। 

অপরদিকে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে জেলে পাড়াগুলোতে। অবরোধকালে মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে মাছ ধরতে যাননি এমন জেলেদের সংখ্যাও ছিল চার ভাগের একাংশ। সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়লেও এসব জেলেরা সরকারের আইন মেনে অবরোধের শেষের দিকে এসে সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

dhakapost 

সমুদ্রে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেরা জানান, সরকার আমাদের ভালোর জন্যই অবরোধ দিয়েছে। যার সুফল আমরা জেলেরাই ভোগ করবো। আর যারা আইন না মেনে সমুদ্রে মাছ ধরেছেন তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে। 

তবে জেলেদের অনেকেরই অভিযোগ- আড়তদাররা প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য নামতে বাধ্য করেছেন জেলেদের। সরকারের আইন বাস্তবায়ন না করে বিশেষ সুবিধা নিয়ে জেলেদের সমুদ্রে নামতে উৎসাহিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। 

যেসকল জেলেরা অবরোধকালে মাছ ধরেননি তারা ইলিশ ধরার স্বপ্ন নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। ২৩ জুলাই রাত ১২টার পর তারা সাগরে যাবেন। ইতোমধ্যে ট্রলার  মেরামত, নতুন জাল তৈরি ও পুরোনো জাল সেলাইসহ সমুদ্রে মাছ ধরার সকল প্রস্তুতি শেষ করে অপেক্ষায় আছেন উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মৎস্যজীবীরা।

জানা গেছে, দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের প্রজনন বাড়াতে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সব ধরণের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মৎস্য অধিদপ্তর। শনিবার (২৩ জুলাই) রাত ১২টার পরই মৎস্যজীবীরা নেমে পড়বেন রুপালি ইলিশের সন্ধানে। 

আলীপুরের জেলে একলাস গাজী বলেন, আমরা সব সময় সরকারি নির্দেশ মেনে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছি। এখন ট্রলার ও জাল প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার পর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো। আমরা আশা করছি সাগরে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ধরা পরবে।

অপর এক জেলে নবী হোসেন বলেন, সরকার ঘোষিত ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আমরা পালন করেছি। আমরা এরই মধ্যে ইলিশ ধরার সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় অপেক্ষায় আছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার মধ্য রাতে মাছ ধরতে যাব। 

মহিপুর মৎস্য বন্দরের একাধিক জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর ইলিশের ভরা মৌসুমে ইলিশ না পেয়ে উপকূলের জেলেরা ধার দেনা করে কোনো রকমে সংসার চালিয়েছেন। অবরোধ শেষে সমুদ্রে ইলিশ ধরা পড়লে দেনা পরিশোধ করতে পারবেন তারা।

dhakapost

কুয়াকাটা আশার আলো পুনর্বাসন মৎস্যজীবী জেলে সমবায় সমিতির সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, অবরোধকালীন সময়ে যদি প্রতিবেশী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমানায় মাছ ধরতে না পারে তাহলে আমরা ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সুফল পাবো। জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। আমাদের জেলেরা দেনা পাওনা দিয়ে ভালো ভাবে জীবনযাপন পারবে।

আলীপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, এ বছর অবরোধকালে অনেক জেলে ট্রলার মেরামতের নামে অন্যত্র গিয়ে সমুদ্রে মাছ ধরেছে। তবে আলীপুর-মহিপুর বন্দরের জেলেদের বেশিরভাগই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ ধরা থেকে বিরত ছিল। অবরোধকালে ৫৬ কেজি করে জেলেদের চাল দেওয়া হয়েছে। অচিরেই আরও ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, এবার ৬৫ দিনের অবরোধে আমাদের অনেকটা সহযোগিতা করছেন জেলেরা। শুক্রবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে দেখছি জেলেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবার সরকারের তরফ থেকে জেলেদের সহযোগিতা করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা দিন-রাত মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করেছি। আশা করছি, আমরা এ বছর শতভাগ সফল হব। কারণ অবরোধ চলাকালে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে সব ডিমওয়ালা মা মাছ দ্রুত ডিম ছেড়ে দেয়। এতে সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ মাছ ধরা পড়বে জেলেদের জালে।