ক্রমবর্ধমান বর্জ্য নিয়ে নাকাল অবস্থা সারাবিশ্বেই। পৃথিবীর স্থলভাগের পাশাপাশি সাগর, মহাসাগর ,নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে জমেছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। যা অপসারণ এখন অনেক দেশের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। উন্নত বিশ্বের দেশ যুক্তরাজ্যেও এক দশা। সেখানকার বেশির ভাগ বাসিন্দা তাদের দৈনন্দিন জীবনে উৎপাদিত বর্জ্য অর্ধেকে নামিয়ে আনতে একরকম গলদঘর্ম অবস্থা। তবে ঠিক একই সময়ে কেউ কেউ আবার বর্জ নামিয়ে এনেছেন শূন্যের কোঠায়। বিস্ময়কর হলেও সত্য তারা সারা মাসের বর্জ্য রাখতে পারেন ছোট একটা জ্যামের জারে। উত্তর লন্ডনের তেমনই এক রিসাইক্লিং মানেজার অ্যান্ডার জাবেলা। যিনি তার জীবন যাপনকে এমনভাবে গুছিয়ে নিয়েছেন, যাতে রিসাইকেল বা পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এমন প্যাকেজিং রোধ করা যায়।

তিনি বলেন, রিসাইকেল ভালো উপায়, তবে বর্জ্য কমানোর সবচেয়ে ভালো পন্থা হলো রিফিলিং (বস্তা বা বড় প্যাকেট থেকে পুনরায় বোতলজাত করা)।

জিরো ওয়েস্ট (দৈনন্দিন জীবনে সর্বনিম্ন পর্যায়ের বর্জ্য তৈরির নীতি) পদ্ধতি মেনে চলা অ্যান্ডার জাবেলা তার লন্ড্রির লিকুইড সোপের বোতল দেখিয়ে বলেন, ‘গত তিনবছর ধরে আমি এই বোতল বারবার রিফিল করে ব্যবহার করছি। তার মানে সব মিলিয়ে ৩০টি এমন প্লাস্টিক বোতল কম ব্যবহার করেছি। এটা সংখ্যায় খুব বেশি না। কিন্তু এভাবে যদি লাখ লাখ বাসায় রিফিল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তবে শত শত কোটি প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার রোধ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম দু’সপ্তাহ আমাকে মরণপণ করে মানসিক চাপ নিতে হয়েছে। কেননা কী করব আর কী করব না, তা নিয়ে অনেক তথ্য গোছানো ছিল। সেই সঙ্গে এলাকায় এ ধরনের রিফিলিং করে পণ্য বিক্রির দোকানও ছিল না। এগুলোই আমার এবং আমার স্বামীর মানসিক চাপ বাড়িয়েছির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি।’

জাবেলা আরও বলেন, আমি একদম লেগে ছিলাম। আমি জানতাম আমাকে বহুপথ পারি দিতে হবে। প্রথমে এক সপ্তাহ, তারপর এক মাস, দুই মাস এরপর আমি বুঝতে পারালাম আমি এটা পছন্দ করছি, অভ্যাসে পরিণত করেছি এবং দেখলাম আগের মতো ঝুড়িতে আর প্লাস্টিক বর্জ্য জমছে না। লন্ডের বাসায় বাসায় বোতলভর্তি ক্যারেট নিয়ে ফেরি করে বেড়ায় টপআপ ট্রাক নামের এমন এক দোকান। এভাবে ট্রাকের ফেরিওয়ালা এলাকায় একাবর ব্যবহারের প্লাস্টিক কমাতে কাজ করছেন। এর প্রতিষ্ঠাতা ইলা শ্যোন করোনা মহামারিতে চাকরি ছেড়ে এ ব্যবসায় নামেন। তিনি যখন দেখেন জিরো ওয়েস্ট শপিং এর চাহিদা বাড়ছে বাজারে। তিনি বলেন, ‘খাদ্যের অপচয় বা প্যাকেজিং বর্জ্য বা দূষণ, সবমিলিয়ে আমরা আমরা মারাত্মক সংকটে আছি। তাই এসব বিষয়ে উন্নতি করতে প্রত্যেককেই যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা খুশি হব যদি বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানও এ পরিবর্তনে এগিয়ে আসে। আশা করি এটা একটা সর্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হবে।’

জিরো ওয়েস্ট শপের সহ-উদ্যোক্তা অ্যাড্রেইন অ্যাসলান বলেন, ‘আমাদের সবশেষ ক্যাম্পেইনে ২৩০ জন নাগরিক জিরো ওয়েস্ট নীতি মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ১৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা) এসেছে তহবিলে। সুতরাং আমরা আমাদের দোকানে যা যা করেছি এবং করছি তার প্রতিদান পাওয়া গেছে।