সম্প্রতি ধর্ষণের যে রমরমা পরিস্থিতি,বোঝা মুশকিল কখন আপন বোন আর মা-এর উপর অমানিশা নেমে আসে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে ধর্ষণের অবস্থা এমন পরিস্থিতিতে নেমে আসে যে, দিন প্রতি ২/৩ টা ধর্ষণের খবর খুব সহজেই পাওয়া যেতো এদের বেশীর ভাগের ক্ষেত্রেই হয় ধর্ষণের পর হত্যা। খুব কম নজির পাওয়া যায়,ধর্ষিতা নিজের ধর্ষণের বিচার চেয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছে।

ধর্ষণের পর হত্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো ধর্ষক রা রীতিমতো বিকৃত যৌনাচারের দিকে ধাবিত হয়। সম্প্রতি রাজধানীর কলাবাগানের ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী আনুশকাহ’র মৃত্যু যে বিকৃত যৌনাচারের কারণেই হয়েছে তা সহজেই আঁচ করা যায়। এমন অসংখ্য নজির আছে। আমাদের সমাজে পর্ণগ্রাফি কিংবা বিকৃত যৌনাচার নিয়ে তেমন কারো মাতামাতি লক্ষ্য করা যায় না। সকলেই কেবল ধর্ষক আর ধর্ষিতা কে নিয়ে মেতে ওঠে। কিন্তু এর বাইরে যে আরেকটা নীল জগত আছে নিয়ে আমাদের কারোর ই তেমন মাথা ব্যাথা নেই। ওই নীল জগৎ থেকেই যে ধর্ষণের হাতে খড়ি,সে ব্যাপারে আমরা অনেকেই এখনো ভেবে দেখিনি। তবে বর্তমানে পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা নিয়ে মুক্ত বাতাসের খোঁজে” নামক বই তে বেশ সুশৃঙ্খল ভাবেই ওই নীল জগতের অবাদ আলোচনা হয়েছে। কল্পনাতীত ভাবেই পর্ণোগ্রাফি থেকে মানুষ ধর্ষণের দিকে ঝুকে পড়ছে। পর্ণের দৃশ্য গুলো থেকে একজন স্বাভাবিক মানুষ খুব সহজেই বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষে পরিণত হতে পারে।

পর্ণগ্রাফি তে দেখানো দৃশ্যের সাথে বাস্তব জীবনের মিল খুজতে গিয়েই মানুষ ধর্ষণের দিকে ধাবিত হয়। পর্ণে আসক্ত মানুষরা তাদের মনের কুৎসিত কামনা তার স্ত্রী কিংবা সঙ্গীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চায়। আনুশকাহ’র মৃত্যুতে আমরা জেনেছি পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের ফলেই মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। বিপরীতে থাকা সাথী হয়তোবা ভয়ংকর রকমের পর্নআশক্ত ছিলো। যা সে পর্নে দেখেছে,তাই এখানে প্রয়োগ করেছে। ফল স্বরূপ মেয়েটির এক তরতাজা জীবন শেষ হয়ে গেছে। ঠিক সেভাবে ই পর্নেগ্রাফি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মানুষকে ধর্ষণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একজন পর্ন আসক্ত মানুষ সব সময় সুযোগের সন্ধান করবে,কখন কার সাথে যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়া যায়। কারণ তার মস্তিষ্ক ইতোমধ্যে যৌনকর্ম কে অতি সাধারণ নৈমিত্তিক ব্যাপার হিসেবেই ধরে নিয়েছে।

স্বাভাবিক পর্ণ(সফটকোর) মানুষকে যৌনক্রিয়ায় ঠেলে দেয়,একই সাথে ঝাঁঝালো পর্ণ(হার্ডকোর) আশক্তরা ধর্ষনে লিপ্ত হতে পারে খুব সহজেই। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য সব পর্ণসাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলেও, পর্ণগ্রাফির অবাদ সহজলভ্যতা ঠিকই রয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা যারা পর্নগ্রাফি তে আসক্ত, এদের বেশীর ভাগই বিদেশী পর্নোসাইট গুলো থেকে পর্ণ সংগ্রহ করছে। বেশীর ভাগই ভিপিএন ব্যবহার করে কোনো ঝামেলা ছাড়াই পর্ণগ্রাফি তে ডুবে যাচ্ছে। তাছাড়াও পর্ণগ্রাফি শেয়ারিং এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার দরুন খুব সহজেই পর্ণ হাতের মুঠোয় পেয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন। পর্ণোগ্রাফি আইনের সুষ্ঠ বাস্তবায়ন এবং পর্ণগ্রাফির সহজলভ্যতা যাতে রোধ করা যায়, এই ব্যাপারে সকল ব্যবস্থা নিতে হবে৷ পর্ণগ্রাফি রোধ হলেই হয়তে ধর্ষনের হার কিছুটা হলেও কমে আসবে।

 

পাঠকের মতামত