আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডে দলীয় প্রতীক পেলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আরিফ। বৃহঃবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এদিকে মাহবুবুর রহমান আরিফকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় স্বস্থি প্রকাশ করেছেন চরকাঁকড়ার সাধারণ জনগণ।

মাহবুবুর রহমান আরিফ ১৯৭৫ সালে এক সম্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন । পিতা অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের ৫ম সন্তান আরিফ। ছাত্র জীবনে থেকে ছিলো অত্যান্ত মেধাবী। ১৯৯৫ সালে সরকারি মুজিব কলেজ থেকে তার শিক্ষা গন্ডি পার করেন। পারিবারিক ভাবে মাহবুবুর রহমান আরিফ আওয়ামী পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবন থেকে মাহবুবুর রহমান আরিফের রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৮৯ সালে রামগতি বি.বি.কে উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯২ সালে সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলের দুঃসময়ে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। দ্বায়ত্বপালন কালে তখন ১৯৯৫ সালে বিএনপি ও ছাত্রশিবির কর্তৃক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ১ মাস ২৯ দিন কারাবরণ করেন।

একজন দক্ষ ও পরিক্ষিত আওয়ামী সৈনিক হিসেবে নিজেকে প্রমান করায় ২০১২ সালে মাহবুবুর রহমান আরিফকে চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিশ্রমী ব্যক্তি কখনো থেমে থাকে না তারই উদাহরণ মাহবুবুর রহমান আরিফ। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে দলীয় অবদানে বরাবরই ভূমিকা রেখেছিলো মাহবুবুর রহমান আরিফ। ২০১৩ সালে জামায়াত বিএনপি যখন দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার জন্য হরতাল ও নৈরাজ্য দৃষ্টি করে তখন মাহবুবুর রহমান আরিফ ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে সেই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে অবস্থান নেয়।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের’র বিজয়ের লক্ষ্যে মাহবুবুর রহমান আরিফের নেতৃত্বে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর চরকাঁকড়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের’র ঐতিহাসিক জনসভায় মাহবুবুর রহমান আরিফের ব্যাপক জন উপস্থিতি কেন্দ্রীয় ভাবে ব্যাপক প্রসংশিত হয়েছে। সামাজিক ভাবেও মাহবুবুর রহমানের আরিফের রয়েছে অসামান্য অবদান। বর্তমানে তিনি চরকাঁকড়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি,রূপনগর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, রূপনগর জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও চরকাঁকড়া পানি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালন করছেন।

ইউপি নির্বাচন নিয়ে মাহবুবুর রহমান আরিফের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি ছাত্রজীবন থেকে জীবন বাঁজি রেখে দলের দুঃসময় থেকে রাজনীতি করে আসছি। আমার পরিবার আওয়ামী পরিবার। আমি চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সন্তান। দলের দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আমি এই ইউনিয়নের মানুষকে নিজের পরিবারের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি। আমার সাধ্যমত যখন যেখানে পেরেছি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। করোনাকালিন সময়ে মানুষ যখন কর্মহীন হয়ে মানবেতর জিবনযাপন করছে তখন দলের নির্দেশে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়েছি, সহযোগিতা করেছি। আওয়ামী লীগকে হৃদয়ে লালন করি বলে মানুষের জন্য কাজ করি। আমাদের প্রিয় নেতা আবদুল কাদের মির্জা ও এই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ জানে তারা আমাকে তাদের বিপদে কতটা পাশে পেয়েছে। আমি নিঃস্বার্থে মানুষের জন্য আরো বেশি করে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা আবদুল কাদের মির্জা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন করে সারা বাংলাদেশের মধ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এছাড়াও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জে প্রত্যেক ইউনিয়নের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তাই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড দলীয় নির্বাচন করার ব্যাপারে আমাকে সিদ্ধান্ত দেওয়ায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে তারা আমাকে যে বিশ্বাস আর ভরসা দিয়ে সিলেক্ট করেছে আমি যেন তা পালন করতে পারি সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করার ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ আশাবাদি। চরকাঁকড়ার সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আমি অনেক কাছ থেকে পেয়েছি তাই জয়ের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।