ঝালকাঠির সুগন্ধা পৌর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনের মামলা হওয়ার এজাহারভুক্ত আসামী যুবলীগ নেত্রী ফাতেমা শরীফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর ) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শহরের সিটিপার্কের নতুন চরের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নির্দেশে বুধবার সকালে ঝালকাঠি থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হযরত আলী বলেন, আসামী ফাতেমা শরীফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা রিমান্ডের আবেদন করবো।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিনজনের নাম উল্লেখ থাকলেও ১৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে মামলায়। সুগন্ধা পৌর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীতা মন্ডল অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উত্তরপূর্ব কোণায় রাস্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছিল। গত ১৪ আগস্ট বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়া শারমীন মৌসুমি কেকা, আনিসুর রহমান তাপু ও ফতেমা শরীফের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ১২/১৪ জন ব্যাক্তি খেলার মাঠের গেটের তালা ভেঙ্গে অবৈধভাবে স্কুলের কম্পাউন্ডে প্রবেশ শহীদ মিনার ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কিছু লোকজন ও কয়েকজন অভিভাবক ভাঙ্গার কারণ জানতে চাইলে ও বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ১ ও ২ নং আসামি পিস্তল ও ৩নং আসামী দেশিয় অস্ত্র প্রদর্শন করে সকলকে সরে যেতে বাধ্য করে।
প্রধান শিক্ষক রীতা মন্ডলের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনার একটি গুরত্বপূর্ণ স্থাবর সম্পত্তি। আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করে ইচ্ছাকৃতভাবে শহীদ মিনার ভাঙচুর করে মারাত্মক অপরাধ সংগঠন করেছে যাহা দ্রুত বিচার আইনে বিচারযোগ্য।
জানা যায়, সুগন্ধা পৌর আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীতা মন্ডল বাদি হয়ে গত রবিবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমীন মৌসুমি কেকা ও শহর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু, যুবমহিলা লীগ কর্মী ফতেমা শরীফসহ ১৭ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। বিচারক এ.এইচ.এম ইমরানুর রহমান থানার ওসিকে বাদির অভিযোগ এফআইআর হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতের আদেশ হাতে পেয়ে দ্রুত বিচার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রেকর্ড করেন ওসি। মামলা দায়েরের পরপরই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হযরত আলী এজাহার ভুক্ত ৩নং আসামি ফতেমা শরীফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন।