রাত পোহালেই না জানি কোন ফসল নষ্ট করে দুর্বৃত্তরা। প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে একের পর এক ফসল নষ্টের ঘটনা ঘটছে। গত ৪ মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৮ জন কৃষকের মাছ এবং ফসল কেটে এবং কীটনাশক ছিটিয়ে সাবাড় করে দিয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ২০ শতক জমির মরিচ গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ প্রশাসন তাদের আটক করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের মকিদুল ইসলামের প্রায় এক বিঘা জমির শতাধিক কলাগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দরিদ্র কৃষক বাপ্পির ১৪ কাঠা জমির পুঁইশাক কেটে সাবাড় করে। তার আগে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে একই কৃষকের ঋণের টাকায় চাষ করা ১০ শতক জমির বেগুন কেটে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। ৩১ আগস্ট একই ইউনিয়নের রাঢ়িপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের ৪৮ শতকের মূল্যবান দার্জিলিং লেবু ও থাই পেয়ারার কলম কেটে দেয়। ২৫ আগস্ট বলরামপুর গ্রামের মাছচাষি মমরেজ আলীর পুকুরে একইভাবে বিষ দিয়ে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মাছ মেরে দেয়। এভাবে প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকা থেকে ফসল মাছ নষ্টের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহাফুজুর রহমান মিয়া জানান, এসবের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তরা সন্দেহ করলেও তা অনুমাননির্ভর হওয়ায় কেউ অভিযোগ দিতে চাচ্ছেন না। ফলে আইনের আওতায় আনতে পারছেন না কাউকে। কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ফসলহানি ঘটলেও মাত্র তিনজন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাও আবার অনুমাননির্ভর।