ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেছেন, ওয়াসার অর্জন দেখেই সরকার আমাকে আবার নিয়োগ দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা ওয়াসার গত ১০ বছরের অর্জিত সফলতা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তাকসিম এ খান বলেন, গত দশ বছরে ওয়াসার অনেক সাফল্য আছে, অর্জন হয়েছে। সরকারও অর্জন চায়, সাফল্য চায়। এ কারণেই আমাকে আবার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাফল্য হয়েছে এবং সরকার সেটাই চাচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার নেয়া দাঁড়াও কর্মসূচির পাঁচটি চ্যালেঞ্জের একটি হচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল। ওয়াসার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘অনৈতিক, অবৈধ, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি’ যারা করতে পারছে না তারাই এসব সমালোচনা করছে।

আমাদের পাঁচটা চ্যালেঞ্জর মধ্যে পঞ্চমটা হচ্ছে ভেস্টেড ইন্টারেস্টেড গ্রুপ। সব জায়গায় এ ধরনের একটা গ্রুপ থাকতে পারে, যেটা আমাদের ভেতরেও আছে, বাইরেও আছে। সরকারের মধ্যে আছে, সরকারের বাইরে আছে। যাদের স্বার্থে আঘাত পড়ে তারাই এই সমালোচনা করে। তারা একটা সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রচারণাও চালায়।

তাকসিম বলেন, ওয়াসার গত দশ বছরের কর্মকাণ্ডে অস্বচ্ছতা নেই। ওয়াসায় সুশাসন ফিরেছে। এটা হতে গিয়ে অনেকের স্বার্থে লেগেছে, অসুবিধা হয়েছে। আপনি যখন সুশাসন কায়েম করেন তখন যারা সুশাসন চায় না সে কী করবে? আপনি যখন দুর্নীতিবিরোধী কাজ করেন, তখন যে দুর্নীতি করে সে কী করবে? তার পথ হলো প্রচার চালানো আর আমাকে সরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে তো ভালো। আমি যদি না থাকি তাহলে ওই গোষ্ঠী, যারা আগে অনৈতিক কাজটা করতে পারত, তারা আবারও একই কাজ করতে পারবে।

২০০৯ সালে তাকসিমকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তার মেয়াদ বাড়ানো হয় পাঁচ দফা। তার পঞ্চম দফার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৪ অক্টোবর। এর আগে নানা সমালোচনার মুখে তাকে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয় সরকার।

তার পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দায়ের একটি রিট হয়েছে, আগামী রবিবার যার আদেশের তারিখ রয়েছে।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ঢাকায় দৈনিক ২৫০ কোটি লিটার পানির চাহিদা থাকলেও ওয়াসা ২৬৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে। ৮৬০টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভ থেকে এবং পাঁচটি শোধনাগারের মাধ্যমে ৩৩ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

ঢাকা ওয়াসা ২০২৪ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ পানি ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করবে। বর্তমানে ঢাকার ২০ শতাংশ পয়োবর্জ্য শোধন করতে পারে ওয়াসা। এ ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের মধ্যে শতভাগ সক্ষমতা অর্জনের কাজ চলছে।