বিড়ির শুল্ক কমানোর অনুরোধ করে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন ১০ জন সংসদ সদস্য (এমপি)। গত ৩ ও ১০ সেপ্টেম্বর তারা এই চিঠি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা। 

সংসদ সদস্যদের এমন উদ্যোগে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রজ্ঞা বলছে, তাদের (সংসদ সদস্য) সম্মতিক্রমেই জাতীয় সংসদে পাস হয় চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরের বাজেট। এবারের বাজেটে বিড়ির উপর কোন শুল্কই বাড়ানো হয়নি। গত চার বছরের মতো এই বাজেটেও বিড়ির সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রাখা হয়। এ অবস্থায় বিড়ির শুল্ক কমানোর পক্ষে সাংসদের অবস্থান নজিরবিহীন ও ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি সংগঠনটির।

৩ সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠান চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল আজম খাঁন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারলি আলম ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী আর ১০ সেপ্টেম্বর সুপারিশ পাঠান পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও পাবনা- আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স।

অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে করোনায় লাখ লাখ বিড়ি শ্রমিকের বেকার হওয়ার যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে দাবি প্রজ্ঞার। কারণ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘দি রেভিনিউ অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট আউটকাম অব বিড়ি ট্যাক্সেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বিড়ি শিল্পে  কর্মরত নিয়মিত, অনিয়মিত এবং চুক্তিভিক্তিক মিলিয়ে পূর্ণসময় কাজ করার সমতুল্য শ্রমিক সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯১৬ জন। সরকারিভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হলে ৭৮.৪ শতাংশ বিড়ি শ্রমিক এই ক্ষতিকর পেশা ছেড়ে দিতে চায় বলে উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, তামাক ব্যবহার করোনার সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন কথা বললেও করোনার অজুহাত দিয়েই সাংসদরা বিড়ির শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিড়ি মালিকদের ফাঁদে পা না দিয়ে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকার নিয়েছে তার পূর্ণ বাস্তবায়নে সাহায্য করার জন্য নীতিপ্রণেতাদের এগিয়ে আসারও আহ্বান প্রজ্ঞার।