যারা দিনরাত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, করোনার ভয়কে জয় করে, পুলিশের নির্যাতন, শত বাধা প্রতিকূলতা, ক্ষমতাশীলদের চোখ রাঙ্গানী উপেক্ষা করে মা-বোনের ধর্ষণের বিচার চেয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করে আন্দোলন গড়ে তুলছে মশাল হাতে, তাদের কথা একবার ভাবুন।
আমরা এইচএসসির অটোপাসের উচ্ছ্বাসে বা অন্যান্য ইস্যুর নিচে নারীর প্রতি নিপীড়ন ধর্ষণের প্রতিবাদ চাপা পড়ে যেতে দিতে পারি না। প্রিয় সহপাঠী ও বন্ধুগণ, এখনো চূড়ান্ত সাফল্যের হিসাব-নিকাশ এডমিশনের উপর নির্ভর করছে। এখন হতাশ বা খুশি হবারও দরকার নেই। এতদিন পরীক্ষা নিয়ে টেনশন ছিল। এখন আপাতত চিন্তা গেল। কিন্তু, মনে রেখো ভার্সিটি অটোপ্রমোশন দিবে না। তাই সেই বিষয় খেয়াল রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। একই সাথে সমাজ রাষ্ট্রে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন ও চালিয়ে যেতে হবে।
আজ যদি আমরা সময় থাকতে রুখে না দাঁড়াই তাহলে ধর্ষণের তালিকায় আমার আপনার নাম উঠতে বেশি দেরি নেই। কারণ, আমাদের মামলা/অভিযোগ গুলো আকাশে-বাতাসে ভুতুড়ে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাচ্ছি না। আর বিচার হীনতায় দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অনাচার! মন্ত্রী সাহেবদের কাজ শুধু বসে বসে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ভুড়ি বানানো আর ব্যাংকে টাকা জমানো না।মনে রাখা উচিৎ, রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই জনগণ কর্তৃক আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব।
কিন্তু দেশে চলছেটা কি? এই চলার গন্তব্য কোথায়? যেখানে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পীকার নারী, শিক্ষামন্ত্রী নারী, মহিলা আসনে ৫০ জন নারী এমপি থাকা সত্বেও এই সমাজে নারীকে কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, হাজারো নারীকে কেন ধর্ষিতা হতে হয়? বারবার কেন নারীর নিরাপত্তা বা বিচার চেয়ে রাজপথে নামতে হয়? কেন আমরা দিনরাত আন্দোলন করেও ন্যায়বিচার পাইনা? এদেশে এতো এতো ক্ষমতাবান নারী থেকেও কেন নারীদের ধর্ষকের ভোগের বস্তুতে পরিণত হতে হয়? নারী নিরাপত্তায় আজও কেন অবহেলিত বঞ্চিত? এ প্রশ্নগুলোর জবাব পাবো কোথায়? চাইবো কার কাছে?
অধিকার আদায়ের এই আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। রাজপথে নামতে না পারলে অনলাইনে আন্দোলন করতে হবে। যে যার জায়গা থেকে সোচ্চার কন্ঠে আওয়াজ তুলতে হবে। প্রতিবাদী ভাইবোনদের পাশে দাড়াতে হবে, তাদের সাহস জোগাতে হবে। সবাই বজ্রকন্ঠে রুখে দাঁড়াও দেশের ভিতরে লুকিয়ে থাকা শিয়াল-শকুন হায়নাদের বিরুদ্ধে। আজ আমরা যদি দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকি তাহলে কোনো দিন রঙ্গিন সকালের মুখ দেখব না। তাই এক হয়ে, হাতে হাত রেখে রুখে দাঁড়াতে হবে, রুখে দিতে হবে। নতুন ইতিহাসের রচনা করতে হবে।
লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী সরকারি কলেজ।