বর্তমান সময়ে ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে। নারীর স্বাধীনতা হরণের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে ধর্ষণ। শিশু কিশোর কিংবা কেউ আজ নিরাপদে নেই। ধর্ষণের কারণে নারী সমাজ আজ তীব্র এক উৎকন্ঠার মধ্যে সময় পার করছে।

সমাজে নারী নিরাপদে নেই। নারীরা সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে ধর্ষণের কারণে। আজ ধর্ষিত নারীরা হচ্ছেনা ধর্ষিত হচ্ছে এই সমাজ ব্যবস্থা। সমাজ থেকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। সমাজের প্রত্যেক মানুষের
মধ্যে নৈতিকতা থাকতে হবে।

পুরুষদের কারণে আজ নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে। এজন্য বলা হয় সকল পুরুষ মস্তিষ্ক ধর্ষক। আবার বলা যায় সকল পুরুষ ধর্ষক নই। কিন্তু পুরুষ মাত্রই ধর্ষক অথবা সম্ভাব্য ধর্ষক কে হতে পারে, বা ধর্ষণ করতে এলে তাকে কি করা উচিৎ সেটা নিয়ে আলোচনা যতটা জুরুরি তার থেকে বেশি জুরুরি ধর্ষণ কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়। অত্যন্ত দুঃখ জনক হলেও সত্য এই বিষয়ে তেমন কোনো লেখা বা কার্যক্রম আজ অবধি পরিলক্ষিত হয় নাই।

যখন বলা হয় পুরুষ মাত্রই ধর্ষক তখন ধর্ষণের দায় পুরুষের উপর বর্তায়। তাহলে সকল পুরুষদের যদি ধর্ষক বলে
ধর্ষণের মাত্রা কমানো যেতো, তাহলে লক্ষ লক্ষ বার পুরুষকে ধর্ষক বলার পক্ষপাতী। পুরুষদের ধর্ষক বলায় পুরুষরা লজ্জিত হতে পারে, কিন্তু ধর্ষণ কি থেমে যাবে।

ধর্ষণের এই চলমান ধারাকে ইংরেজিতে বলে রেপ কালচার। রেপকালচারের বাংলা করলে অর্থের ভিন্নতা প্রকাশ পায় বলে ইংরেজি শব্দটা প্রকাশ করলাম। মেয়েরা কথাও নিরাপদ নয়। কি ঘরে কি বাহিরে কি বাড়ির ওঠোনে বাসে রাস্তাঘাটে ওলিতে গলিতে বাদ নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গায় ধর্ষিত হচ্ছে নারীরা।

আমাদের দেশে ধর্ষণ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। থেমে নেই ধর্ষণ প্রতিদিন একটি করে ধর্ষণ হচ্ছে।তবে ধর্ষণ বা রেপ কালচার প্রতিরোধের উপায় কি?

কঠিন সত্যতা হচ্ছে ধর্ষণ প্রতিরোধের কার্যকরী ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত আমাদের দেশ তো দূরের কথা উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই নেয়া হয় নাই।পুরুষতান্ত্রিক সমাজ একথাটা বরাবরই উপেক্ষিত।তবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমারা ধর্ষণ প্রতিরোধে সক্ষম হতে পারি।

ধর্ষণ বিষয়ে সন্তানদের অবহিত করা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এ বিষয়ে ধরণা দিতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে ধর্ষণ জঘন্যতম অপরাধ। বিদ্যালয়ে ধর্ষণ বিষয়ে একটি পাঠ্যবই বের করা যেতে পারে।

ধর্ষণ বিরোধী প্রচার প্রচারণা ব্যাপক ভাবে চালাতে হবে। এতে করে মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পরিবর্তন সম্ভব। যেমন যুক্তরাজ্যে অনেক প্রচারণা আছে যা ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়তা করছে যেমন নারীবাদী সংগঠন (TBTN.)

পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের পরিবর্তন আনা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কারণে অনেক পুরুষ মনে করেন তাদের অবস্থান নারীদের উপরে এজন্য পুরুষ নারীদের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর জোর না দিয়ে তারা নারীদের শ্লীলতাহানি করে আসছে বরাবর।

 

আমাদের সমাজের মানুষদের নৈতিকতা থাকতে হবে। নারীদের আত্নোন্নতিবিধান নিশ্চিত করতে হবে। ছোট থেকে মেয়েদের রুপচর্চার শেখানো হয় কেনোনা তাদের সৌন্দর্য আসল। অপরদিকে ছেলেদের শেখানো হয় নারীদের সৌন্দর্য তাকে পরিমাপের মানদন্ড। সে কারণে নারীরা দিনদিন বাহ্যিক সৌন্দর্য সচেতন নারীরা নিজেদের বস্তু বানিয়ে ফেলেছে।

যখন নারী দেহ কে বস্তু মনে করা হয় সেখানে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে।

মিডিয়া ও যোগাযোগ মাধ্যমে কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যম রেডিও ধর্ষণ নিয়ে প্রচার প্রচারণা নেই বললেই চলে। কিন্তু এর ভূমিকা অপরিসীম। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এর প্রচার প্রচারণা চালানো যেতে পারে।

নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকা চলবে না। আমাদের প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠতে হবে সেই সব ধর্ষকদের বিরুদ্ধে। আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়ত মেয়েদের সাথে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে। যারা বিভিন্ন পার্কে যাতায়াত করেন তাদের নজরে পড়ে এই বিষয় টি। এসব অনৈতিক কার্যকলাপ দেখলে তীব্রভাবে এর প্রতিবাদ করুন একা না পারলে পাশের জনকে ডেকে আনে প্রতিবাদ করুন এবং প্রতিবাদের ভাষা কঠিন হতে হবে। মনে রাখবেন যারা অপরাধী তারা ভীতু প্রকৃতির হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে ধর্ষিতদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কেনোনা বহুক্ষেত্রে দেখা গেছে ধর্ষিতার স্কুল বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে দিনের পর দিন ধর্ষিত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে ও বহু নারী ধর্ষণের শিকার হয় কিন্তু চাকরী হারানোর ভয়ে চুপ হয়ে থাকে। কিন্তু এতে যদি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে তারা প্রকাশ্যে ধর্ষকদের নাম বলতে পারবে। এতে ধর্ষণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যে সমস্ত সংগঠন ধর্ষণের বিরুদ্ধে কাজ করতেছে,তাদের সাথে একাত্ত্ববোধ ঘোষণা করে জনগনকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনের শাসন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

এরকম আরো অনেক উপায় থাকতে পারে ধর্ষণ প্রতিরোধের। আলোচিত বিষয় গুলো বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে প্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তুলে ধরা হয়েছে। পুরুষ মাত্রই ধর্ষক এবং ধর্ষণ কে পুরুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে