পিএসজি বনাম অলিম্পিক মার্শেই ম্যাচের উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। ওইদিনের ঝামেলার ঘটনার তদন্তের ফলাফলও ঘোষণা হয়ে গেছে। তবে এখনো নাকি প্রতিদিন হুমকি পাচ্ছেন মার্শেই ডিফেন্ডার আলভারো গঞ্জালেস! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে অন্ততঃ ২০ লাখ হত্যার হুমকি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। 

ঘটনাটা আরেকবার মনে করিয়ে দেয়া যাক। কয়েক সপ্তাহ আগে ফরাসী লিগ ওয়ানের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি ও অলিম্পিক মার্শেই। ম্যাচে হারতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিকে। তবে ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচিত হয় ম্যাচের শেষমুহূর্তে দুই দলের ফুটবলারদের মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা। মার্শেইয়ের ডিফেন্ডার আলভারো গঞ্জালেস থাপ্পড় মেরে ২ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন পিএসজি তারকা নেইমার। অন্যদিকে নেইমার অভিযোগ করেন, গঞ্জালেস তাকে মাঠে কটুক্তি করেছেন। বর্ণবাদের অভিযোগও তোলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
যদিও নেইমারের অভিযোগ ধোপে টেকেনি। ফরাসী লিগ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে জানিয়েছে, গঞ্জালেসের বিরুদ্ধে কোনো বর্ণবৈষম্যমূলক আচরনের প্রমাণ পায়নি তারা।
বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। গঞ্জালেস অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর থেকে নেইমার ভক্তরা সমানে হুমকি দিচ্ছেন তাকে! এরমধ্যে অনেকে তাকে সরাসরি হত্যার হুমকিই দিচ্ছেন।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে আমি অন্ততঃ ২০ লাখ হুমকিমূলক মেসেজ পেয়েছি। বিভিন্ন ভাষায় আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি অনেকে আমার গাড়ির ছবি পাঠিয়েছে এবং জানিয়েছে আমি যেখানেই যাই তারা আমাকে হত্যা করবে। এমনকি অনেকে বলেছে, আমার বাড়িতে এসে তারা আমাকে খুন করবে!
এমনকি তার বাবা-মাকে খুনের হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন গঞ্জালেস।
তিনি বলেন, একদিন তারা বললো আমার বাবা-মা যে মার্কেটে কাজ করে তারা সেখানে যাবে এবং তাদেরকে খুন করবে। আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম সেটি শুনে। এর আগে আমার সঙ্গে কখনো এমনটি ঘটেনি। এমনকি আমার কাছের লোকজনকে তারা টার্গেট করতে লাগলো। এটা ছিল কঠিন সময়।
সেই রাতেই নাকি আলভারো বুঝতে পেরেছিলেন, কঠিন সময় পাড়ি দিতে হবে তাকে।
তিনি বলেন, সেই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। কারণ আমি জানি নেইমারের প্রভাব অনেক। আমার মনে হয়না, আমার সঙ্গে যা ঘটেছে সে ব্যাপারে তার কোনো ধারণা আছে! তার অযাচিত একটি অভিযোগের জন্য আমাকে কতোটা ভুগতে হয়েছে সে ব্যাপারে তার কোনো ধারণাই নেই।
একপর্যায়ে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলেও জানান গঞ্জালেস।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনার পর আমার বাবা-মা আমার কাছে চলে আসেন। তারাও ভয় পেয়ে যান। একপর্যায়ে আমি ফ্রান্স ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। ক্লাব সভাপতি এবং কোচকে আমি বলি, তোমরা যদি আমার কথা বিশ্বাস না করো তাহলে আমাকে চলে যেতে দাও।