দিন যায়, রাত আসে। সময় তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকে। কিন্তু মাঝে মধ্যে জীবনের কিছু রঙ যেন বড্ড বিবর্ণ হয়ে পড়ে। নারী শব্দটার মাহাত্ম্য যেন অনেকের কাছেই অজানা। একজন নারী পারিবারিক দিক থেকে কখন মা,কখন স্ত্রী, কখনও শাশুড়ি। আবার পেশাগত দিক থেকে নানাবিধ পরিচয় বহন করে। আসলে নারী শব্দটা তুলনীয় অর্থে ব্যবহার করা প্রকৃত অর্থে ঠিক নয়। একজন নারী পরিবার- পরিজন, সন্তান সন্তানাদি, চাকরি, সবটার দেখভাল করতে করতে নিজের সুখের কথাটা নিজের অজান্তেই অকপটে ভুলে যায় বলা যায় না, ভুলে যেতে হয়। উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন নারী একটা পরিবারের “নিম গাছ”। কারণ কোন পরিচর্যা ছাড়াই নিম গাছের নিম পাতা, নিম ফল মানুষের ব্যাপক উপকারে ব্যবহৃত হয়। যদি আমরা লক্ষ্য করি, দেখতে পাব যে, নিম গাছের গোড়ায় প্রচুর ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে। কারণ পরিচর্যা করার কেউ নেই। কিন্তু প্রতিনিয়ত, প্রতিমুহূর্তেই নিম পাতা, নিম ফল কারো না কারো উপকারে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেদিন হঠাৎ করেই যেন দৃষ্টিগোচরে পড়ল, আমার বাড়ির সামনে নিম গাছটার অনেক শিকড় বিস্তৃত হচ্ছে। এ পলক পড়তে না পড়তেই পাশের বাড়ির সবাই আলোচনা করতেছে যে, নিমগাছটির শিকড় বেশি বিস্তৃত হলে সকলের হাঁটতে অসুবিধা হবে। তাই সকলে সম্মতি দিল গাছের গোড়াটা যেন অতি দ্রুত শান দিয়ে বাঁধানো হয়। নিম গাছের ছাল, বাকল কেউ সিদ্ধ করে খায়, আবার নিম পাতা কেউ তেলে ভেজে খায়, কচি ডাল দাঁতের ব্যাথার উপশম কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নিম পাতা চর্মরোগের মহাঔষধ হিসেবে সর্বত্র বহুল পরিচিত। এছাড়া দাদ, খোস প্যাচড়া নিরাময়ে সাহায্য করে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়, নিমগাছের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনস্বীকার্য। কিন্তু মানুষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে সেই পরম উপকারী নিম গাছের শিকড়ের ক্ষতিসাধন করে। যখন নিম গাছের গোড়াটা শান দিয়ে বাঁধানো হবে তখন নিজের ইচ্ছে মতো শিকড় গুলো বাড়তে পারবে না। সীমাবদ্ধতা চলে আসবে। নিজস্বতা হারিয়ে ফেলবে। তেমনি নিমগাছের ন্যায় নারীর জীবন। এত উপকার সাধন করার পর নিম গাছের সুবিধা নিয়ে তেমন কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। তদ্রূপ প্রতিটি নারীর অব্যক্তহীন কথা শোনার মতো কেউ নেই। এ যেন মর্মস্পর্শী বোবাকান্না! প্রতিটি মুহূর্ত নারীদের সংগ্ৰাম করে জীবন নামক অধ্যায়ে টিকে থাকতে হয়। আজকে যে নারীকে আমরা জায়গা দিচ্ছি না, আগামীকাল সেই জায়গায় আপনার মেয়ে আসলে একই প্রতিকূল পরিবেশের স্বীকার হবে। তাই আসুন, নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে অনুপ্রেরণা দিয়ে উৎসাহিত করি। যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, যে কোন জঘন্যতম অপরাধ রুখতে সকলে নারীদের পাশে ঐক্যবদ্ধ ভাবে অবস্থান করি। আসুন, সকলে যে যার অবস্থান থেকে প্রতিনিয়ত জানার চেষ্টা করি “কেমন আছে নারীরা?” তাহলেই ভাল থাকবে পৃথিবীর সকল নারীরা আর আমরা সক্ষম হবো আগামী প্রজন্মকে সুশীল সমাজ ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা উপহার দিতে।
জুবাইয়া ঝুমা, শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ