পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তিদের চেয়ে তাদের শ্বসনতন্ত্রে ১০০ গুণ বেশি করোনাভাইরাস বহন করতে পারে। বৃহস্পতিবার জার্নাল জামা পেডিয়াট্রিস্কে প্রকাশিত এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। ফলে বাচ্চারা অন্যদের সংক্রামিত করতে পারে কিনা সে সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগের গবেষনাগুলোতে শিশুদের থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে সেটির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে শিশুরা করোনা বেশি বহন করতে পারায় তাদের থেকে যদি সংক্রমিত হয় তাহলে সেটি আশঙ্কার বিষয়ে হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

জামা পেডিয়াট্রিস্ক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় গবেষকরা বলেছেন, শিশুদের থেকে করোনার সংক্রমণের বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার হতে পারলে এটি জনস্বাস্থ্য গাইডলাইন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জানা গেছে, ২৩ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত আন এন্ড রবার্ট এইচ লুরিয়ে চিল্ড্রেন হসপিটাল এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি একটি যৌথ গবেষকদল গবেষণার জন্ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো, ইলিনয়েসের বহিরাগত এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া শিশু এবং পূর্ন বয়স্কদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে।

গবেষণায় এক মাস থেকে শুরু করে ৬৫ বছর পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী যারা মৃদু অথবা মাঝারি উপসর্গে ভুগছেন তাদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় মোট তিনটি গ্রুপ নিয়ে কাজ করা হয়। এদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য একটি গ্রুপ করা হয়। এছাড়া পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী এবং ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের জন্য আলাদা দুটি গ্রুপ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, শিশুরা তাদের শ্বসনতন্ত্রে পূর্ণাঙ্গ বয়স্কদের চেয়ে ১০ থেকে ১০০ গুণ পর্যন্ত বেশি করোনা বহন করতে পারছে। তবে শিশুদের কাছ থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে কিনা বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।

তবুও, অল্প বয়সী শিশুদের আচরণগত অভ্যাস এবং জনস্বাস্থ্য বিধিনিষেধ হ্রাস হওয়ায় স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টারে তাদের সান্নিধ্য সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। সূত্র : এনডিটিভি।