মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি নৌ-পথে ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে।

শিমুলিয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার শিমুলিয়া ঘাট। তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় মাস খানেক ধরে এ ঘাট দিয়ে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেলায় সীমিত আকারে ফেরি চললেও রাতে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এছাড়াও স্রোতের কারণে ফেরি গুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছেনা। নদী পারাপারে তিন গুনের বেশি সময় লাগছে। যেখানে ঈদকে সামনে রেখে ১৭ টি ফেরি চলাচল করার পরও যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতো, সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে মাত্র ১০টি ফেরি চলছে। এসব কারণে ঘাটে যাত্রী ও যান বাহনের জটলা বাড়ছে। যাত্রী ও পরিবহন চালকদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঘর মুখো মানুষের চাপ ও যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল চার শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন। এছাড়াও নদী পার হওয়ায় অপেক্ষায় ছিল ৩ থেকে সাড়ে তিন শতাধিক মোটর সাইকেল। দুপুরের দিকে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও বিকেল থেকে আবারো বাড়ছে চাপ।

এদিন বিকেলে চরটার সরেজমিনে দেখা যায়, শিমুলিয়া ঘাটের নৌ পুলিশ ফাঁড়ির মাঠ যানবাহনে পূর্ণ। যাত্রীরা প্রচণ্ড গরমে মাঠে ও তাদের গাড়িতে অস্বস্তি নিয়ে বসে আছে। এছাড়াও দুই ও চার নাম্বার ঘাটের সংযোগ সড়কে কয়েক শতাধিক মোটর সাইকেল ও প্রাইভেট কার ফেরিতে উঠার অপেক্ষা করছে।

এ সময় মোটর সাইকেল চালক আনিসুর রহমান জানান, তার বাড়ি মাদারীপুর। তিন নারায়ণগঞ্জ থেকে পড়াশোনা করে। পাঁচ বছর ধরে মোটরসাইকেলে করে ঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। আনিস বলেন, মোটর সাইকেলের এমন জট জীবনেও দেখনি।

সবিতা বিশ্বাস নামে আরো এক মোটর সাইকেল যাত্রী বলেন, দোহার থেকে সকাল ৯ টায় ঘাটে এসেছেন। যাবেন ফরিদপুর সালতা উপজেলায়। বিকেল হলেও তারা ফেরিতে উঠতে পারেননি।

ঈগল পরিবহনের যাত্রী শাহীন আলম বলেন, ভোর ছয়টায় ঘাটে এসেছি। ঘাটে অনেক যানবাহন। আমাদের গাড়ি ফেরির সিরিয়াল পায়নি।

সাতক্ষীরাগামী প্রাইভেটকারের যাত্রী রওশন আরা বলেন, বাড়ির সবার সঙ্গে ঈদ করব বলে ভোরেই ঢাকা থেকে শিমুলিয়া ঘাটে এসেছি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হচ্ছে। ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় আছি। কখন সিরিয়াল পাব জানি না। তবে যে করে হোক, নদী পার হবেন বলে জানালেন তিনি।

এদিকে, স্পিডবোট ও লঞ্চে যাত্রী ওঠা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে স্বাস্থ্য বিধি নেই বললেই চলে। তবে ভাড়া নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না তাদের। নুরে আলম নামের বরিশালের এক যাত্রী বলেন, লঞ্চে ভাড়া আগের মতোই নিচ্ছে। যাত্রীদের চাপ খুব বেশি। সবাই স্বাস্থ্য বিধি অমান্য করছে। এতে করোনার শঙ্কা বাড়ছে।

এসময় আরো কয়েকজন জানান, ভিড় থাকায় একটু হুড়োহুড়ি করেই লঞ্চে উঠতে হয়েছে। তবে নদী পার হয়ে বাড়ি যাবেন, এটা ভেবেই সব কষ্ট ভুল গেছেন তারা।

তবে ভোগান্তিতে ছিলেন ট্রাক চালকেরা। বাগের হাট গামী ট্রাক চালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, দুদিন হলো ঘাটে এসেছি। আমাদের আটকে রেখে ছোট গাড়ি পার করল।

শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. ফয়সাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বলেন, যানবাহন পারাপারের জন্য ছোট-বড় ১০টি ফেরি চলছে। বিকেল নাগাদ দুই শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে। তবে ক্রমেই চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, পদ্মার পানিতে প্রচুর স্রোতে, তাতে পলিও রয়েছে পলি জমে চ্যানেল মুখ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সাথে স্রোতের কারণে ফেরি ঠিক পথে চলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছে। এতে যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সন্ধ্যার পর ফেরি চলাচল বন্ধ থাকতে পারে।