অত্যধিক তাপমাত্রা এবং পানি সংকটের কারণে আরব আমিরাতকে চাষাবাদের জন্য খুব একটা উপযোগী বলে মনে করা হয় না। এদিকে করোনা মাহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পুরো বিশ্বেই খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ পড়ছে। লকডাউন থাকায় খাদ্য সংকটেও পড়েছিলো দেশটি।

ভার্টিক্যাল ফার্মের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে মরুর দেশ আরব আমিরাত। নতুন কৃষি প্রযুক্তিতে কোটি কোটি টাকাও বিনিয়োগ করছে সেখানকার সরকার। ভার্টিক্যাল ফার্মিং প্রযুক্তি যার মধ্যে একটি।

পিওর হারভেস্ট স্মার্ট ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা স্কাই কুরৎস ভার্টিক্যাল ফার্মিং প্রযুক্তিতে চাষাবাদের সাহস করেছেন। তার মতো বেশ কয়েকজন নবীন উদ্যোক্তাকে নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তিনি।

কুরৎস বলেন, আমি যখন মরভূমিতে টমেটো চাষের কথা বললাম, সবাই আমাকে পাগল ভেবেছিলো।

ভার্টিক্যাল ফার্মিং প্রযুক্তিতে গ্রিনহাউজের মধ্যে কয়েক ধাপে একটির উপর আরেকটি গাছের স্তরে চাষ করা হয়। এলইডি আলোর সাহায্যে তাপমাত্রা ও আলো নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ বাড়তি পানি খরচ এড়াতে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি দেয়ার ব্যবস্থা থাকে। তাছাড়া বাড়তি পানি উপরের স্তর থেকে নিচের গাছে যাওয়ায় অপচয় একেবারেই হয় না। এর ফলে সারা বছরই চাষ করা সম্ভব হয়।

অপর একটি ভার্টিক্যাল ফার্ম এরোফার্মের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক ওশিমা জানান, জমিতে যে ফসলের পাতা ছাড়তে ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগে, এই পদ্ধতিতে সেটা ১০ থেকে ১২ দিনেই করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে উচ্চপ্রযুক্তির খাদ্য উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে আরব আমিরাত। সেই থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী করমুক্ত সুবিধা নিয়ে দেশটিতে নানান রকম উদ্যোগ নিচ্ছেন।

সূত্রঃ ডয়চে ভেলে