এক:
এই সমাজে ইট্টু চালাক না হলি বাঁচা যায়? সাবধানের মার নেই, বিষয়টি মাথায় নিয়ে আমি এখন স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে আছি। কেউ বলতে পারেন- কোয়ারেন্টাইনের রুম কি ভাবে সাজাতে হয়? সেলফি তুলে পোস্ট করবো কিন্তু রুমটা ঠিক কোয়ারেন্টাইনের মত দেখাচ্ছেনা। ঘরের মধ্যে দু’একটা ডাক্তারি উপকরণ না থাকলে কি কেউ বিশ্বাস করবে? সেলফি তুলে পোস্ট করলেও লাইক কমেন্ট তেমন পড়বে না। কি যে করি!
দুই:
সপ্তাহ খানেক আগে ইতালি থেকে বাল্যবন্ধু জুয়েল ফিরেছে। প্রতিবার আসার সময় আমাদের জন্য ঘড়ি, চশমা, পারফিউম আনে। জুয়েল ফোন করে জানালো ওনাকি সরকারি নির্দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছে, তাই বের হতে পারছেনা। অতএব আমরা গোড়াদশেক বন্ধু হৈ হুলে­াড় করতে কারতে জুয়েলের বাড়ি গেলাম। খুব আগ্রহ, যায় কোয়ারেন্টাইন ব্যাপারটা দেখে আসি। জুয়েল সেই আড্ডাবাজ! সারা বিকেল সেই মজা-মাস্তি করলাম। সবাই মিলে হাঁসের মাংস আর রুটি খেয়ে ফিরে আসলাম। পরদিন থেকে আমার গলা ব্যাথা আর জ্বর।
তিন:
সেদিন গভীর রাতে বিজ্ঞান মনষ্কো আরিফ ভাইয়ের ফোন, ঘুম চোখে বিরক্ত নিয়ে ফোন রিসিভ করলাম
আমি: ভাই এতো রাতে, কোন সমস্যা?
ভাই: তোকে বলেছিলাম না, যে আল্লাহ রোগ দেন তিনিই ঔষধ পাঠান’ মনে আছে?
আমি: না তো ভাই, এমন কথা কবে বললেন?
ভাই: চুপকর বিয়াদপ। মুখেমুখে কথা বলিস! দ্রুত আমার বাসায় চলে আয়। করোনার ট্রিটমেন্ট পেয়ে গেছি!
আমি: বলেন কি, কেথায়, কিভাবে?
ভাই: হঠাৎ নারকেল গাছের পাতা সাদা হয়ে গেছে, তিনটা পাতা আদাদিয়ে বেটে খেলেই করোনার গুষ্টি শেষ। তাড়াতাড়ি আয়, তোর ভাবি ব্লেন্ডার করছে। আরিফ ভাইয়ের কথা শুনে, আমার মাথাদিয়ে আগুন ছুটছে। যত্তসব আজগুবি কথা। হ্যালো… হ্যালো… ভাই কিছু বুঝতে পারছিনা, নেট পাচ্ছেনা মনে হয়। সকালে কথা হবে বলে ফোন অফ করলাম।
চাঁর :
আমার জুলমত চাচা, সেই মাপের জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষ। করোনা ভাইরাসে ইন্ডিয়ানদের গোমুত্র পান ও গবোর থেরাপি দেখে সারাদিন গালাগালি করেন। ওরা নাকি কুসংস্কারাচ্ছন্ন।
ওমা! আজ ভরসন্ধ্যায় একবাটি থানকুনি পাতার রস নিয়ে এসে বললো, পশ্চিম দিকে মুখ করে তাড়াতাড়ি খেয়ে নে। আর শোন, বসে খাবি না হলে কাজ হবে না। মনে মনে বললাম- হায়রে হুজুগে জুলমত চাচা।
পাঁচ:
শুক্রবার নামজ পড়ে বের হতেই, পাড়ার স্টাইলিশ ব্রাদার রিগান ভাই সামনে এসে দাঁড়ালো। আমার মুখ থেকে তিন দিনের পুরাতন কফি কালারের মাক্স খুলে নিয়ে বললো- তোরটার রঙ হেব্বি তো! নিজের মাক্স আমার হাতে ধরিয়ে আমারটা নিজের মুখে পুরে বাইকে চড়ে ডাটের সাথে চলে গেলো। হায় হায় আমর যে করোনা
ছয়:
আজ দুই দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে থাকতে ভিশন বোরিং লাগছে। ভাবছি, কাল সন্ধ্যায় মামুন, পাপ্পু, তুহিন, সাগর, পল্টনদের নিয়ে বাসায় বারবিকিউ পার্টি দিবো। আমার কোয়ারেন্টাইনও হলো আবার একটু মাস্তিও হলো। সারাদিন ঘরে থাকা কি মুখের কথা!
সাত:
মোদ্দা কথা, জাতিভেদে শব্দ নির্বাচন করতে হয়। কোয়ারেন্টাইন শব্দ ইউরোপ, চীন, ইতালি, আমেরিকা বোঝে। আমাদের জন্য আবদ্ধ, খোয়াড় অথবা ঘরে আটকে থাকা। এদেশে করোনা না বলে ছুঁয়াছে, মরণব্যাধি বললে বেশি কাজ হবে। আমাদের নাগরিক মান উগান্ডার মত অথচ প্রত্যাশা করি আমার রাষ্ট্রপ্রধান হোক কানাডার মত। সত্য বলতে – নির্লজ্জ শব্দটি একান্ত ই আমাদের।